
শেষ আপডেট: 14 September 2020 18:30
অক্সফোর্ড বলছেন, ওপেন লেভেল ট্রায়াল হবে এই অ্যান্টিবডি-ককটেলের। অর্থাৎ বহু মানুষের উপর এই থেরাপি করা হবে এবং তারাও জানতে পারবে ট্রায়ালের কোন স্তরে তারা রয়েছে। অক্সফোর্ডের ইমার্জিং ইনফেকসিয়াস ডিজিজের অধ্যাপক ও এই ক্লিনিকাল ট্রায়ালের চিফ ইনভেস্টিগেটর পিটার হর্বে বলেছেন, ডেক্সামিথাসোনের থেরাপি করা হচ্ছিল এতদিন। তবে করোনায় মৃত্যুহার বাড়তে থাকায় বিকল্প পথের খোঁজ করা হয়। স্টেরয়েডের বদলে সরাসরি অ্যান্টিবডি প্রয়োগ করে ভাইরাস নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া তৈরি হয়েছে। রিজেনারেশন-কভ২ তেমনই একটি সম্ভাব্য ওষুধ যার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হবে। এই অ্যান্টিবডি-ককটেল সুরক্ষিত ও নিরাপদ বলেই দাবি করেছেন তিনি।
ডেপুটি চিফ ইনভেস্টিগেটর মার্টিন ল্যান্ড্রে বলেছেন, এখনও অবধি রিকভারি ট্রায়ালে লোপিনাভির-রিটোনাভির, ডেক্সামিথাসোন, টোসিলিজুমাব ও কনভালেসেন্ট প্লাজমা থেরাপির প্রয়োগ হচ্ছিল। এবার অ্যান্টিবডি থেরাপি শুরু হতে চলেছে ব্রিটেনের হাসপাতালগুলিতে। REGN-COV2 ড্রাগ খুব সহজেই প্রয়োগ করা যাবে এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই বলেই দাবি করেছেন তিনি।
মার্টিন বলেছেন, যখন কোনও সংক্রামক রাসায়নিক উপাদান যেমন ব্যাকটেরিয়া, প্যাথোজেন বা ভাইরাল প্রোটিন শরীরে ঢুকে আসে, তখন তার প্রতিরোধে দেহকোষে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। এই অ্যান্টিবডি তৈরি হয় শ্বেত রক্তকণিকায় (White Blood Cells) । এই অ্যান্টিবডি মূলত তৈরি করে ‘বি লিম্ফোসাইট’ কোষ যাকে বি-কোষ (B Cells) বলে। অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এই বি-কোষ তার অনেকগুলো প্রতিলিপি তৈরি করে ফেলে যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘ক্লোনিং’ । এমন অজস্র কোষ থেকে লক্ষ লক্ষ অ্যান্টিবডি তৈরি হয় রক্তরসে। গবেষকরা বলছেন, একসঙ্গে বহুসংখ্যক অ্যান্টিবডি বা ‘পলিক্লোনাল অ্যান্টিবডি’ রক্ত থেকে ছেঁকে বার করার প্রক্রিয়া অনেক জটিল এবং সময়সাপেক্ষ। সেক্ষেত্রে একটি মাত্র বি-কোষ শনাক্ত করে তার থেকে তৈরি অ্যান্ডিবডি স্ক্রিনিং করে নেওয়া অনেক সহজ। এই অ্যান্টিবডিকে বলে ‘মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি’ । করোনা চিকিৎসায় এই মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি নিয়েই গবেষণা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।
ব্রিটিশ-সুইডিশ ফার্ম অ্যাস্ট্রজেনেকা ইতিমধ্যেই ক্লোনড অ্যান্টিবডি নিয়ে গবেষণা করছে। গবেষকদের দাবি, অ্যান্টিবডি সরাসরি রোগীর দেহকোষে ইনজেক্ট করতে পারলে খুব তাড়াতাড়ি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে শরীরে। জোড়া অ্যান্টিবডি প্রয়োগ করার উদ্দেশ্য হল, যদি একটি অ্যান্টিবডিকে কব্জা করে ফেলে ভাইরাল প্রোটিন তাহলে অন্য অ্যান্টিবডি সেখানে মোকাবিলা করবে। খুব তাড়াতাড়ি ক্লোনড অ্যান্টিবডি ইঞ্জেকশনের ক্নিনিকাল ট্রায়াল শুরু হবে বলে জানিয়েছে অ্যাস্ট্রজেনেকা।
করোনা চিকিৎসায় যমজ অ্যান্টিবডি নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে চাইনিজ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস। এই যমজ অ্যান্টিবডির নাম বি৩৮ ও এইচ৪। গবেষকরা বলেছেন, আরএনএ ভাইরাসের স্পাইক গ্লাইকোপ্রোটিনের সঙ্গে জুড়ে যেতে পারে এই দুই অ্যান্টিবডি। অনেকটা ক্যাপের মতো স্পাইক প্রোটিনের উপর আবরণ তৈরি করে দেয়। ফলে ভাইরাল প্রোটিন আর দেহকোষের ACE-2 রিসেপটরের সঙ্গে জোট বাঁধতে পারে না। অর্থাৎ ভাইরাসের দেহকোষে ঢোকার রাস্তাটা বন্ধ হয়ে যায়।
ইজরায়েলও মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে। ইজরায়েল ইনস্টিটিউট ফর বায়োলজিক্যাল রিসার্চের গবেষকরা জানিয়েছেন এই মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি ভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরির ক্ষমতাকে নষ্ট করে দিতে পারে। ‘জেরুসালেম পোস্ট’-এ এই গবেষণার কথা জানিয়েছিল আইআইবিআর।