দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংক্রামক ভাইরাল প্রোটিন বা ভাইরাল অ্যান্টিজেনকে নির্মূল করতে অ্যান্টিবডি ট্রিটমেন্টেই ভরসা রাখছেন বিজ্ঞানীরা। করোনা চিকিৎসায় তাই নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে অ্যান্টিবডি থেরাপিকে বেছে নিচ্ছে বিশ্বের অনেক দেশই। চিন, ইজরায়েল, আমেরিকা, ব্রিটেনের অনেক সায়েন্স রিসার্চ ফার্মেই অ্যান্টিবডি নিয়ে গবেষণা চলছে। ব্রিটিশ-সুইডিশ ফার্ম অ্যাস্ট্রজেনেকা দাবি করেছে, ‘ক্লোনড’ অ্যান্টিবডি দিয়ে তারা এমন ইঞ্জেকশন বানিয়েছে যা দিয়ে রোগীর শরীরে সরাসরি অ্যান্টিবডি ইনজেক্ট করা যাবে। এবার জার্মান বিজ্ঞানীরাও দাবি করলেন করোনা প্রতিরোধী এমন অ্যান্টিবডি চিহ্নিত করেছেন তাঁরা যা দিয়ে ভাইরাসকে কাবু করা যাবে সহজে।
‘সেল’ সায়েন্স জার্নালে এই গবেষণার রিপোর্ট সামনে এনেছেন বিজ্ঞানীরা। জার্মান সেন্টার ফর নিউরোডিজেনারেটিভ ডিজিজ (DZNE)-এর ভাইরোলজিস্টরা দাবি করেছেন, তাঁরা ৬০০ রকমের অ্যান্টিবডি চিহ্নিত করেছেন যা করোনা সংক্রমণের বিরুদ্ধে সুরক্ষা কবচ গড়ে তুলতে পারে। ভাইরাসের সংক্রমণ সারিয়ে ওঠা ব্যক্তিদের রক্ত থেকে এইসব অ্যান্টিবডি ছেঁকে বের করা হয়েছে।
গবেষকরা বলছেন, অ্যাকটিভ ভ্যাকসিনের বদলে এই অ্যান্টিবডি শরীরে ইনজেক্ট করে প্যাসিভ ভ্যাকসিন হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। অ্যান্টিবডি সরাসরি রক্তে মিশে রোগ প্রতিরোধ তৈরি করবে।
গবেষকরা বলছেন, যখন কোনও সংক্রামক রাসায়নিক উপাদান যেমন ব্যাকটেরিয়া, প্যাথোজেন বা ভাইরাল প্রোটিন শরীরে ঢুকে আসে, তখন তার প্রতিরোধে দেহকোষে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। এই অ্যান্টিবডি তৈরি হয় শ্বেত রক্তকণিকায় (White Blood Cells) । এই অ্যান্টিবডি মূলত তৈরি করে ‘বি লিম্ফোসাইট’ কোষ যাকে বি-কোষ (B Cells) বলে। অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এই বি-কোষ তার অনেকগুলো প্রতিলিপি তৈরি করে ফেলে যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘ক্লোনিং’ । এমন অজস্র কোষ থেকে লক্ষ লক্ষ অ্যান্টিবডি তৈরি হয় রক্তরসে। গবেষকরা বলছেন, সংক্রমণ সারিয়ে উঠেছেন যাঁরা, তাঁদের শরীরেও এমন অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। সেগুলোকে তাঁরা স্ক্রিনিং করে আলাদা করে তার সংশ্লেষ করে দেখেছেন সার্স-কভ-২ ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষমতা এদের আছে।
ব্রিটিশ-সুইডিশ ফার্ম অ্যাস্ট্রজেনেকা ইতিমধ্যেই ক্লোনড অ্যান্টিবডি নিয়ে গবেষণা করছে। গবেষকদের দাবি, অ্যান্টিবডি সরাসরি রোগীর দেহকোষে ইনজেক্ট করতে পারলে খুব তাড়াতাড়ি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে শরীরে। জোড়া অ্যান্টিবডি প্রয়োগ করার উদ্দেশ্য হল, যদি একটি অ্যান্টিবডিকে কব্জা করে ফেলে ভাইরাল প্রোটিন তাহলে অন্য অ্যান্টিবডি সেখানে মোকাবিলা করবে। খুব তাড়াতাড়ি ক্লোনড অ্যান্টিবডি ইঞ্জেকশনের ক্নিনিকাল ট্রায়াল শুরু হবে বলে জানিয়েছে অ্যাস্ট্রজেনেকা।
অক্সফোর্ডের ভাইরোলজিস্টরাও সম্প্রতি জোড়া অ্যান্টিবডি দিয়ে এমন ওষুধ তৈরি করেছেন যা আরএনএ সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেনকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারবে বলেই দাবি। ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) তত্ত্বাবধানে এই ওষুধ তৈরি করেছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি এবং রিজেনারেশন ফার্মাসিউটিক্যালস। অক্সফোর্ড জানিয়েছে, করোনার বৃহত্তর রিকভারি ট্রায়াল শুরু হতে চলেছে ব্রিটেনে। অন্যান্য ওষুধের মধ্যে এই অ্যান্টিবডি থেরাপিও করা হবে।
ইজরায়েলও মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে। ইজরায়েল ইনস্টিটিউট ফর বায়োলজিক্যাল রিসার্চের গবেষকরা জানিয়েছেন এই মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি ভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরির ক্ষমতাকে নষ্ট করে দিতে পারে।