করোনা সারানোর পরে রোগ প্রতিরোধ গড়ে উঠছে, অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে শরীরে, ভাল খবর দিলেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সারিয়ে ওঠার পরেও রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে উঠছে না মানুষের শরীরে। অ্যান্টিবডি তৈরি হলেও তিন মাসের মধ্যে কমে যাচ্ছে, এমনটাই দাবি করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। তবে সম্প্রতি করোনা সারিয়ে ওঠা শতাধিক রোগীর উপর পরীক্ষা চালিয়ে বিজ্ঞানী
শেষ আপডেট: 16 August 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সারিয়ে ওঠার পরেও রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে উঠছে না মানুষের শরীরে। অ্যান্টিবডি তৈরি হলেও তিন মাসের মধ্যে কমে যাচ্ছে, এমনটাই দাবি করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। তবে সম্প্রতি করোনা সারিয়ে ওঠা শতাধিক রোগীর উপর পরীক্ষা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, আক্রান্তদের একটা অংশের মধ্যে ইমিউনিটি গড়ে উঠতে শুরু করেছে ধীরে ধীরে। পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে শরীরে। মনে করা হচ্ছে, হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হতে শুরু করেছে।
সিয়াটেলের একটি জাহাজে আইসোলেশনে থাকা করোনা আক্রান্ত ক্রু মেম্বার ও যাত্রীদের পরীক্ষা করে এমন দাবি করেছেন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা। ১৮ দিন ধরে সমুদ্রেই কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে ওই জাহাজ। ১২০ জন যাত্রীর মধ্যে ১০৪ জনই করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। গবেষকরা বলছেন, একজন সংক্রামিতের থেকেই বাকিদের মধ্যে ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ায়। তবে এখন আক্রান্তদের ৫০ শতাংশই সেরে উঠেছেন। অনেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পথে। তাঁদের আলাদা করে কোয়ারেন্টাইনে রেখে রক্ত পরীক্ষা করা হচ্ছে।
ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির মেডিসিন ক্লিনিকাল ভাইরোলজি ল্যাবরেটরির প্রধান আলেক্সান্ডার গ্রেনিনজার বলেছেন, সুস্থ হয়ে ওঠাদের রক্তে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। এখনও সেই অ্যান্টিবডির পরিমাণ কমেনি। পাশাপাশি, শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি তৈরি হয়েছে। সে প্রমাণও মিলেছে। তাছাড়াও পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সেরে ওঠাদের একটা অংশের মধ্যে এতটাই শক্তপোক্ত ইমিউনিটি তৈরি হয়েছে যে বাকিদের মধ্যে নতুন করে সংক্রমণ ছড়াতে পারেনি। তাই মনে করা হচ্ছে, কম জনের মধ্যে হলেও ‘হার্ড ইমিউনিটি’ তৈরি হতে শুরু করেছে।

মার্কিন ভাইরোলজিস্টরা করোনার ৩৯টি জিনোমের সিকুয়েন্স করছেন। জানা গিয়েছে, একটি জিনোম থেকেই জাহাজের ১০৪ জনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়েছিল। তবে এখন আক্রান্তদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে ওঠায় সেই জিনোমের সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা একেবারেই কমে গেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটাই ভাল লক্ষণ। বড় পরিসরে যদি এভাবেই মানুষের মধ্যে ইমিউনিটি গড়ে উঠতে শুরু করে তাহলেই সংক্রামক ভাইরাল স্ট্রেন একটা পর্যায়ের পরে দুর্বল হয়ে পড়বে। তার জিনের গঠন বিন্যাস বদলে ফেলার ক্ষমতা লোপ পাবে।
করোনা সংক্রমণ কমলেও শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি কতটা গড়ে উঠছে বা করোনা প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি কতদিন টিকে থাকছে এই ব্যাপারে সুনিশ্চিত তথ্য পেতে দীর্ঘ সময় ধরেই গবেষণা চালাচ্ছেন ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির ভাইরোলজিস্টরা। প্রথম পর্যবেক্ষণে তাঁরা দাবি করেছিলেন, করোনার অ্যান্টিবডি মানুষের শরীরে থাকছে কম করে ৯০ দিন। তারপরেই অ্যান্টিবডির পরিমাণ কমতে শুরু করছে। একই দাবি করেছেন কিংস কলেজ লন্ডনের বিজ্ঞানীরা। ঠিক কী কারণে এমনটা হচ্ছে সেটা এখনও জানা যায়নি।
ভাইরাল প্রোটিন বা অ্যান্টিজনকে রুখে দেওয়ার মতো কী পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে এবং সেই অ্যান্টিবডির স্থায়িত্ব ঠিক কতদিন এই সংক্রান্ত গবেষণার রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল ‘নেচার মেডিসিন’ জার্নালে। করোনার রিকভারি ট্রায়াল, ড্রাগের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ, সেরোলজিক্যাল সার্ভের সমীক্ষা অনুসারে সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই ওই রিপোর্ট তৈরি হয়েছিল। গবেষকরা বলছিলেনন, করোনাভাইরাসের মোকাবিলায় রোগীর শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই দুর্বল। অ্যান্টিবডি তৈরির পরিমাণও কম এবং সেই অ্যান্টিবডি ২-৩ মাসের বেশি স্থায়ী হচ্ছে না। বিজ্ঞানীদের শঙ্কা, জোরালো রোগ প্রতিরোধ গড়ে না উঠলে ভাইরাস কখনওই নিষ্ক্রিয় হবে না। রোগ সারলেও ভাইরাল স্ট্রেন সুপ্ত অবস্থায় থেকে যেতে পারে।