
শেষ আপডেট: 29 March 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো : পিএনবি কেলেঙ্কারির নায়ক নীরব মোদী সুযোগ পেলেই লন্ডন ছেড়ে পালাবেন। এই যুক্তি দিয়ে আদালতে তাঁর জামিনের বিরোধিতা করেছিল পুলিশ। শনিবার তার জবাবে নীরবের কৌঁসুলি ক্লেয়ার মন্টগোমারি যুক্তি দেখালেন, লন্ডনে একটি কুকুর পুষেছেন তাঁর মক্কেল। কুকুরের ওপরে খুবই মায়া পড়ে গিয়েছে তাঁর। পোষ্যটিকে ছেড়ে কোথাও পালিয়ে যাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। সুতরাং তাঁকে জামিন মঞ্জুর করা উচিত।
ক্লেয়ার এমনও বলেছেন, জামিন পেলে তাঁর মক্কেল একটি ইলেকট্রনিক ট্যাগ পরে ঘুরবেন। ফলে তাঁর গতিবিধির ওপরে ইচ্ছামতো নজর রাখা যাবে। এমনিতে জামিনে মুক্ত অপরাধীকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর থানায় হাজির হতে বলা হয়। কিন্তু ক্লেয়ারের দাবি, ইলেকট্রনিক ট্যাগের সাহায্যে তাঁর মক্কেলের ওপরে আরও ভালোভাবে নজর রাখা সম্ভব হবে।
বিচারক এম্মা আরবাথনট অবশ্য এই যুক্তি শোনেননি।
অভিযোগ, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা ঠকিয়ে নিয়েছিলেন হিরে জহরতের ব্যবসায়ী নীরব মোদী ও তাঁর কাকা মেহুল চোকসি। ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে তাঁরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। কয়েক দিন আগে লন্ডনের এক দৈনিকের সাংবাদিক শহরের রাস্তায় তাঁকে দেখতে পান। কিছুদিন পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। তারপর থেকেই নীরব জামিনের জন্য চেষ্টা করে চলেছেন।
ক্লেয়ার মন্টগোমারি কোর্টে বলেন, লন্ডনের চার্টারহাউস স্কুলে তাঁর ছেলে পড়ত। সে এখন আমেরিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গিয়েছে। নীরব এখন একটি কুকুর পুষেছেন। এর পরে কি মনে হয়, তিনি লন্ডন ছেড়ে পালাবেন? ব্রিটেনে পশুপ্রেমীদের সংখ্যা কম নয়। ক্লেয়ার বলতে চেয়েছেন, তাঁর মক্কেলও কুকুরটিকে ভালোবাসেন।
তিনি বলেন, কেউ যদি ভাবেন তিনি জামিন পেলেই লন্ডন ছেড়ে পালাবেন, তাহলে ভুল করছেন। পালিয়ে বাঁচার মতো কোনও জায়গা তাঁর জানা নেই। তিনি কোথাও যাচ্ছেন না। কোনও দেশের নাগরিকত্বের জন্য তিনি আবেদনও করেননি। জামিন পেলে তিনি দেশ ছেড়ে পালাবেন না।
ভারতের হয়ে কোর্টে সওয়াল করে ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস। তাদের বক্তব্য, জামিন পেলে নীরব পালাতে চেষ্টা করবেন। সাক্ষীদের হুমকি দেবেন। প্রমাণও নষ্ট করার চেষ্টা করবেন।
গত সপ্তাহে প্রথমবার নীরবের জামিনের আবেদন নিয়ে শুনানি হয়। পলাতক ব্যবসায়ীর হয়ে সওয়াল করছেন ক্লেয়ার ও আনন্দ দুবে। আরও এক পলাতক ব্যবসায়ী বিজয় মাল্যকে প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধেও তাঁরাই সওয়াল করেছিলেন। প্রথমবার জামিনের আবেদন করার সময় তাঁরা জানান, নীরব ৫ লক্ষ পাউন্ড জামানত রাখতে রাজি। দ্বিতীয়বার শুনানির সময় তিনি ১০ লক্ষ পাউন্ড পর্যন্ত জামানত রাখতে রাজি হয়েছেন।