
শেষ আপডেট: 24 September 2020 18:30
জিনের গঠন বদল বা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে জেনেটিক মিউটেশন (Genetic Mutation) এমন একটা প্রক্রিয়া যেখানে জিনের যে সাজসজ্জা বা বিন্যাস তাকেই বদলে দেওয়া হয়। সব জিনেরই একটা নির্দিষ্ট বিন্যাস থাকে। মিউটেশন মানে হল সব বদলে ফেলে আবার নতুন করে সাজিয়ে তোলা। এই বদলে ফেলার প্রক্রিয়া নানা রকম হয় এবং তার উপর ভিত্তি করে জেনেটিক মিউটেশনও নানা প্রকারের হয়। কোথাও ডিএনএ-র একটা বেস পেয়ার বদলে যায় যাকে মিসেন্স মিউটেশন বলে, এমন প্রক্রিয়াতেই আবার ননসেন্স মিউটেশন দেখা যায়। কোথাও আবার নতুন ডিএনএ যোগ হয়ে ইনসারশন হয়।
মার্কিন গবেষকরা বলছেন, করোনা তার জিনের সামান্য অংশেই বদল ঘটাচ্ছে, কিন্তু তার প্রভাব হচ্ছে মারাত্মক। স্পাইক প্রোটিনের ৬১৪ পজিশনে (অ্যাসপারেট থেকে গ্লাইসিন)এই বদলটা হচ্ছে। S-D614 ও S-G614 প্রোটিনের মধ্যে এই বদলটা দ্রুত হচ্ছে। এই দুই প্রোটিনই মানুষের দেহকোষের রিসেপটর প্রোটিন অ্যাঞ্জিওটেনসিন-কনভার্টিং এনজাইম ২ (ACE-2) এর মাধ্যমেই কোষে ঢুকে প্রতিলিপি তৈরি করে। এই বদলের ফলে তারা আরও দ্রুত রিসেপটর প্রোটিনের সঙ্গে জোট বেঁধে কোষে ঢুকতে পারছে। গবেষকরা বলছেন, এই মিউটেশনের কারণে মানুষের শরীরে নতুন রিসেপটর প্রোটিনও খুঁজে নিতে পারে ভাইরাল স্ট্রেন।
জিনের একটা রিডিং ফ্রেম থাকে, তাতে তিনটে বেস থাকে। প্রতি বেসে একটি করে অ্যামাইনো অ্যাসিডের কোড থাকে। এই অ্যামাইনো অ্যাসিডের কোড গুলো বদলে দিচ্ছে ভাইরাস। এতে তার লাভ হল, কোড বদলে গেলে সে আবার নতুন করে জিনের গঠন সাজিয়ে নিতে পারব। তার চেহারাও বদলে যাবে। হিউম্যান ট্রান্সমিশন বা এক মানুষের শরীর থেকে অন্য মানুষের শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে হলে এই বদলটা দরকার। জিনের বিন্যাস এভাবে বদলে ফেলার কারণেই ভাইরাস মানুষের শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতার বিরুদ্ধে নিজের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারছে, ফলে করোনার রিইনফেকশনও দেখা যাচ্ছে বলে মন গবেষকদের।