দ্য ওয়াল ব্যুরো: অতিমহামারীর সঙ্কট দেখেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট কতটা উদাসীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন, সে প্রমাণ আমেরিকা পেয়ে গিয়েছে। তাই ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোনও কথা মানতে রাজি নই। ট্রাম্প যদি বলেন করোনার টিকা নিতে হবে, কিছুতেই নেব না। উনি যা বলবেন, তা মানা হবে না। প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেটের মঞ্চ থেকে সাফ জানালেন ভাইস-প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডেমোক্র্যাট কমলা হ্যারিস।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ডিবেটের মঞ্চে মুখোমুখি কমলা হ্যারিস ও মাইক পেন্স। শুরু থেকেই কোভিড সংক্রমণ নিয়ে একের পর এক তীর ছুড়ে যাচ্ছেন কমলা। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেছেন, কোভিড রুখতে ব্যর্থ ট্রাম্প প্রশাসন। আমেরিকাবাসীর নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে কোনও চিন্তাই নেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের। শুধুমাত্র প্রচার চালানোর জন্য করোনা সারানোর আগেই হাসপাতাল থেকে ফিরে এসে তিনি সে প্রমাণ দিয়েছেন। বারে বারেই তাঁর খামখেয়ালী ও বেপরোয়া মনোভাব মানুষজনের সামনে চলে এসেছে। কোভিড ভ্যাকসিন নিয়েও তাড়াহুড়ো করেছেন ট্রাম্প, দাবি কমলা হ্যারিসের।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করতে ভ্যাকসিন নিয়ে যে হুড়োহুড়ি করছেন ট্রাম্প, সেটা কতটা গ্রহণযোগ্য, প্রশ্ন তুলেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন ডেমোক্র্যাট। কমলা বলেছেন, যদি ডক্টর অ্যান্থনি ফৌজি বা অন্যান্য ডাক্তাররা বলেন, ভ্যাকসিন সুরক্ষিত এবং নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে তাহলে অবশ্যই সে কথা শুনব। কিন্তু যদি ট্রাম্প বলেন ভ্যাকসিন নিতেই হবে, তাহলে কিছুতেই শুনব না।
মার্কিন প্রবাসী ভারতীয়দের মন পেতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত কমলা হ্যারিসকেই ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে মনোনীত করেছেন ডেমোক্র্যাটরা। তার পর থেকেই ট্রাম্পের আক্রমণের তালিকায় জো বাইডেনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন কমলা হ্যারিস। সান ফ্রান্সিসকোর প্রথম মহিলা ও প্রথম অশ্বেতাঙ্গ ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি। প্রথম দক্ষিণ এশীয় আমেরিকান সেনেটরও তিনি। এ হেন কমলা হ্যারিসের সম্পর্কে বলতে গিয়ে বরাবরই ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। কখনও ‘ন্যাস্টি’ আবার কখনও ‘ম্যাড উওম্যান’ বলে মন্তব্য করেছেন। নিজের অপছন্দের যে কোনও মানুষ সম্পর্কেই ট্রাম্পের মুখ বেলাগাম। কমলাকে কটাক্ষ করে ট্রাম্প বলেছেন, আমেরিকার মানুষ তাঁকে পছন্দ করেন না। কমলা হ্যারিস তাঁর মেয়ে ইভাঙ্কার থেকেও অযোগ্য। তাই তিনি কখনওই আমেরিকার প্রথম মহিলা ভাইস প্রেসিডেন্ট হতে পারেন না।
এদিন ডিবেটের মঞ্চে ট্রাম্পকে বিঁধে কমলা বলেছেন, আমেরিকায় সংক্রমণে মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি। আক্রান্তের সংখ্যাও বিশ্বে সর্বাধিক। এ সবের কারণই মার্কিন প্রেসিডেন্টের উদাসীনতা। শুরু থেকেই সঠিক প্রোটোকল মেনে চলেননি তিনি। বাকিদেরও মানতে দেননি। তাই সংক্রমণ লাগামছাড়া হয়ে গেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বের ব্যর্থতার জন্যই দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকা সঙ্কটাপন্ন হয়ে পড়েছে। এখনও সুরক্ষার কথা না ভেবে চটজলদি ভ্যাকসিন নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন তিনি। ট্রাম্পের কোনও সিদ্ধান্তই মানা হবে না।