ফলস' পজিটিভ রিপোর্ট দেখাতে পারে র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট, সতর্ক করল মার্কিন গবেষণা সংস্থা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট কতটা উপযোগী সে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল আগেই। টেস্ট রিপোর্টে গলদ হচ্ছে, এমন অভিযোগও উঠেছিল। সম্প্রতি মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) জানিয়েছে, ‘ফলস পজিটিভ’ রিপোর্ট দেখাতে পারে র্যাপ
শেষ আপডেট: 3 November 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট কতটা উপযোগী সে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল আগেই। টেস্ট রিপোর্টে গলদ হচ্ছে, এমন অভিযোগও উঠেছিল। সম্প্রতি মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) জানিয়েছে, ‘ফলস পজিটিভ’ রিপোর্ট দেখাতে পারে র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট। অর্থাৎ সংক্রমণ না থাকলেও টেস্ট রিপোর্টে ভাইরাস পজিটিভ রিপোর্ট আসতে পারে।
মার্কিন এফডিএ-র দাবি কী? রিয়েল টাইম আরটি-পিসিআর টেস্টে ভাইরাসের জিনোম চিহ্নিত করা হয়। অর্থাৎ রোগীর শরীর থেকে নেওয়া নমুনার মধ্যে সার্স-কভ-২ ভাইরাসের জিন রয়েছে কিনা সেটা পরীক্ষা করে আরটি-পিসিআর টেস্ট। তার জন্য নানা রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। সময় ও খরচ দুই বেশি লাগে। কিন্তু র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে তেমনটা হয় না। টেস্ট কিটে নমুনা ফেললে তার রঙের বদল দেখে ধরে নেওয়া হয় রোগী কোভিড পজিটিভ না নেগেটিভ।
মার্কিন বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই প্রক্রিয়ায় অনেক ত্রুটি হতে পারে। বিশেষত টেস্ট কিটে কোনও গলদ থাকলে ভুল রিপোর্ট দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সেক্ষেত্রে রোগী কোভিড পজিটিভ না হলেও টেস্টের রেজাল্টে পজিটিভ রিপোর্ট আসবে। বেশিরভাগ হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলিতে সময় বাঁচিয়ে বহু মানুষের করোনা পরীক্ষার জন্য র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টেই ভরসা রাখছেন ডাক্তাররা। তাই এই প্রক্রিয়ায় করোনা পরীক্ষা করার সময় টেস্ট কিটের যাচাই করেই পরীক্ষা করতে বলছেন গবেষকরা। র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করতে হলে, অনেক বেশি সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে হাসপাতাল, নার্সিংহোম, ক্লিনিকাল সেন্টারগুলিকে।
র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট কী? রিয়েল টাইম আরটি-পিসিআর (রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ-পলিমারেজ চেন রিঅ্যাকশন) টেস্টে রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয় অনেকগুলো জটিল প্রক্রিয়ায়। এতে সময় বেশি লাগে। আর অ্যান্টিজেন টেস্টে সে তুলনায় সময় অনেক কম লাগে। এই টেস্ট কিট দেখতে অনেকটা প্রেগন্যান্সি টেস্ট স্ট্রিপের মতো। এই টেস্ট কিটে থাকে কোভিড অ্যান্টিজেন টেস্ট ডিভাইস, ভাইরাল এক্সট্র্যাকশন টিউব যার মধ্যে ভাইরাল প্রোটিন ছেঁকে নেওয়ার মতো বাফার এবং নমুনা সংগ্রহের জন্য স্টেরাইল টিউব থাকে। রোগীর থেকে নেওয়া নমুনা স্ট্রিপে ফেলতে হয়। এর পরেই স্ট্রিপে দু’রকম লাইন ফুটে ওঠে যাদের বলে টেস্ট লাইন ও কন্ট্রোল লাইন। এই দুই লাইনের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির উপরেই নির্ভর করবে নমুনায় ভাইরাল স্ট্রেন আছে না নেই। অ্যান্টিজেন টেস্টে অনেক কম সময় ২০-৩০ মিনিটের মধ্যে সংক্রমণ পরীক্ষা করা সম্ভব।
ভারতে এই ধরনের টেস্ট কিট বানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানি এসডি বায়োসেন্সর, পুণের মাইল্যাব ইত্যাদি। তবে দেশেও র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট নিয়ে নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চকে। দিল্লিতে এই অ্যান্টিজেন টেস্ট রিপোর্টে গলদ দেখা গেছে বলে দাবি উঠেছিল। অভিযোগ ছিল, ফলস রিপোর্টের জন্যই দিল্লিতে বেশিরভাগ কোভিড পজিটিভ রোগীকে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না, তাই সংক্রামিতের সংখ্যা কম দেখাচ্ছে। সেই মামলা গড়িয়েছিল হাইকোর্ট অবধি। পরে অবশ্য কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে দাবি করা হয়, ভারতে তৈরি অ্যান্টিজেন টেস্ট কিটে কোনও গলদ নেই। টেস্ট কিট যাচাই করেই করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।