দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিশুদের কোভিড সংক্রমণের ভয় কতটা এই নিয়ে বিজ্ঞানীদের নানা মতামত সামনে এসেছে। ল্যানসেট মেডিক্যাল জার্নাল তার সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করেছে, শিশু ও কমবয়সীদের করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কম। সংক্রমণ ছড়ালেও তার উপসর্গ মৃদু, মৃত্যুহারও কম। নতুন সমীক্ষায় বিজ্ঞানীরা ফের দাবি করেছেন, কিছু ক্ষেত্রে করোনা সংক্রমণে নিউরোলজিক্যাল ডিজিজ দেখা যাচ্ছে শিশুদের মধ্যে। মাথাব্যথা, পেশীর দুর্বলতা এমনকি মস্তিষ্কের রোগ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
‘জামা নিউরোলজি’ (JAMA Neurology) সায়েন্স জার্নালে এই গবেষণার রিপোর্ট সামনে এসেছে। কোভিড আক্রান্ত কয়েকজন শিশুর শারীরিক পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, শ্বাসকষ্ট দেখা যায়নি একজনেরও। বরং নিউরোলজিক্যাল সিম্পটম্প দেখা গেছে। যেমন মাথাব্যথা, সারা অঙ্গে ব্যথা, পেশীর দুর্বলতা ইত্যাদি। কয়েকজেনর ক্ষেত্রে এনকেফ্যালোপ্যাথির উপসর্গও দেখা গেছে। এনকেফ্যালোপ্যাথি মস্তিষ্কের এমন রোগ যেখানে স্মৃতিনাশের ঝুঁকি থাকে। ডিমেনশিয়া, অবসাদ, ভুলে যাওয়ার প্রবণতা, এমনকি কোমাতেও চলে যেতে পারে রোগী। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, সবক্ষেত্রে এমন উপসর্গ দেখা নাও যেতে পারে। তবে বিষয়টা যেহেতু শিশুদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে তাই আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখার প্রয়োজন।
ব্রিটেন, স্পেন, অস্ট্রিয়া-সহ ইউরোপের ২৫টি দেশে ৩ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের উপর সমীক্ষা চালিয়ে ল্যানসেট মেডিক্যাল জার্নাল বলেছিল, করোনার সংক্রমণ হলেও কোনও জটিল রোগ দেখা যায়নি শিশুদের শরীরে। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, শিশু ও কম বয়সী মিলিয়ে ৫৮২ জন কোভিড পজিটিভ রোগীর মধ্যে ৬২% কে ভর্তি করতে হয়েছিল হাসপাতালে। তাদের মধ্যে মাত্র ৮% রোগীকে ইনটেনসিভ কেয়ারে দিতে হয়। মৃত্যুহার ছিল ০.৬৯%। বেশিরভাগ শিশুরই জ্বর, সর্দি, শুকনো কাশির মতো উপসর্গ ধরা পড়েছিল। খুব কমজনের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়ার সংক্রমণ ধরা পড়ে। ২৫% শিশুরই কোনও জটিল রোগ ধরা পড়েনি।
আবার ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার কয়েকটি ইনস্টিটিউটে করোনা আক্রান্ত শিশুদের উপর সমীক্ষা চালিয়ে দাবি করা হয়েছিল, ভাইরাস সংক্রামিত হওয়ার পরে মাল্টি-সিস্টেম ইনফ্ল্যামেটরি সিন্ড্রোমে (Multi-System Inflammatory Syndrome) আক্রান্ত হয়েছে শিশুরা। মাল্টি-সিস্টেম মানেই শরীরের নানা অঙ্গ আক্রান্ত হচ্ছে ভাইরাসের সংক্রমণে। ফুসফুসের সংক্রমণ তো বটেই, হার্ট, লিভার, কিডনি, খাদ্যনালীতেও দেখা যাচ্ছে সংক্রমণ। আর ইনফ্ল্যামেশন মানে প্রদাহ তৈরি হচ্ছে শরীরে।
ইউরোপ ও আমেরিকার নানা জায়গায় কোভিড পজিটিভ ৩৪৫টি শিশুকে পরীক্ষা করে ডাক্তাররা জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে ২৩% শিশুই ফুসফুসের সংক্রমণ, হাঁপানি ও কার্ডিওভাস্কুলার রোগে আক্রান্ত হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে জ্বর, পেটে ব্যথা, বমিভাব, পেট খারাপের উপসর্গ দেখা গিয়েছে। ধীরে ধীরে তীব্র শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, ঝিমুনি, চোখ ফুলে যাওয়া, ত্বকের রঙে বদল এমনকি হাতে-পায়ে জ্বালাপোড়া ক্ষত, লালচে র্যাশও দেখা গেছে অনেকের শরীরে।