
শেষ আপডেট: 14 November 2019 18:30
বাবা আলেকজান্ডার ও মা লিধিয়ার সঙ্গে লরেন্ট[/caption]
বর্ণপরিচয়ের পাঠ আগেই সেরে ফেলেছিল লরেন্ট, দু’বছরের শিশুকে ১০ বছরের ছেলের অঙ্ক কষতে দেখে হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন বাবা-মা। এমনটাও সম্ভব! কোনও দুরারোগ্য ব্যধির শিকার নয় তো লরেন্ট! ছেলেকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে ছোটেন আলেকজান্ডার-লিধিয়া। নিয়ে যাওয়া হয় মনোবিদের কাছেও। ডাক্তাররা আশ্বস্ত করে বলেন এ ছেলে ‘জিনিয়াস’। একদিন তুলনা হবে অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের সঙ্গে। বাস্তবে সেটাই সত্যি হতে চলেছে বলে জানিয়েছেন লরেন্টের বাবা আলেকজান্ডার।

‘‘তার বয়সী ছেলেদের সঙ্গে তুলনা টানাই ঠিক নয়। বরং বলা যায় ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের যে কোনও মেধাবী ছাত্র বা ছাত্রীর থেকে তিনগুণ বেশি দক্ষ লরেন্ট। ওর কেরিয়ার গ্রাফ খুবই লম্বা। এই ছেলেকে রোখা যাবে না,’’ বলেছেন লরেন্টের শিক্ষক পিটার বালটাস।
[caption id="attachment_159187" align="aligncenter" width="791"]
ন’বছরেই ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি[/caption]
এমন ছেলেকে পড়ানোর জন্য দেশে-বিদেশে অধ্যাপক, গবেষকের খোঁজ করেছিলেন আলেকজান্ডার-লিধিয়া। সেই ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন অনেকেই। সুইৎজারল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন উইলকস বর্তমানে লরেন্টকে পড়িয়েছেন দীর্ঘদিন। তিনি বলেছেন, ‘‘ছ’বছর বয়সে লরেন্টের মেধা ছিল ১৬ বছরের কিশোরের মতো। নানা বিষয়ে তাঁর পারদর্শিতা রয়ছে। আমি চাই লরেন্ট অক্সফোর্ডেই গবেষণা করুক।’’
মাইকেল কারনে[/caption]
দশ বছরে হাইস্কুল ডিপ্লোমা ও স্নাতক হয়ে গিনেস বুকে নাম তুলেছিলেন মাইকেল কারনে। ১৪ বছর বয়সে টেনেসে স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে রয়াসনে মাস্টার্স করেছিলেন। ১৮ বছরে কম্পিউটার সায়েন্সে মাস্টার্স। ‘কাইনেটিক আইসোটোপ এফেক্টস’-এর উপর মাইকেলের ১১৭ পাতার গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছিল তাঁর কুড়ি পেরোনোর আগেই। বিশ্বের নানা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি আছে মাইকেলের। এবার তাঁর রেকর্ডই ভাঙতে চলেছে লরেন্ট। দশের আগেই সে পিএইচডি শেষ করে ফেলবে বলেই আশা তার পরিবার ও অধ্যাপকদের।
[caption id="attachment_159193" align="aligncenter" width="768"]
লরেন্ট সিমনস্[/caption]
অ্যালবার্ট আইনস্টাইন ও স্টিফেন হকিং-এর সঙ্গে ইতিমধ্যেই তুলনা শুরু হয়ে গেছে লরেন্টের। ন’বছরেই তার আইকিউ ১৪৫ ছাড়িয়ে গেছে। লরেন্টের মা লিধিয়ার কথায়, ‘‘শুধু মেধা নয়, স্বভাবেও খুবই নম্র লরেন্ট। পোষ্যদের খুব ভালবাসে। বয়স্কদের সাহায্য করে। খেলাধূলায় তুখোড়।’’ সেই সঙ্গে কৌতুক করতেও ভোলেননি লিধিয়া। বলেছেন, ‘‘গর্ভাবস্থায় প্রচুর মাছ খেয়েছিলাম, তাই হয়তো এমন ব্যতিক্রমী মেধা নিয়ে জন্মেছে আমার ছেলে।’’