
শেষ আপডেট: 7 December 2020 18:30
ভারতীয় বংশোদ্ভূত হরি শুক্লাকেও টিকার অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখা হয়েছে। উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডের বাসিন্দা হরির বয়স ৮৭ বছর।
ব্রিটেনে এখনও অবধি করোনা আক্রান্ত ১৭ লাখের বেশি। সংক্রমণে মৃত্যু প্রায় ৬১ হাজার। এই পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে টিকা নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেয় বরিস জনসন সরকার। ব্রিটেনে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকা এখনও তৃতীয় স্তরের ট্রায়ালে রয়েছে। তারপর অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকার ডোজ নিয়ে বিভ্রান্তিও রয়েছে। সেদিক থেকে টিকার দৌড়ে এগিয়ে গেছে ফাইজার। জানা গেছে, ফাইজারের টিকা কেনার উদ্যোগ-আয়োজন শুরু হয়েছিল সেই ২০ নভেম্বর থেকে। ব্রিটেনের মেডিসিন অ্যান্ড হেলথকেয়ার প্রডোক্টস রেগুলেটরি কমিটি (এমএইচআরএ)-র সঙ্গে চুক্তি হয় ফাইজার-বায়োএনটেকের। সূত্রের খবর, ফাইজারের টিকার ৪ কোটি ডোজ কিনেছে ব্রিটেন সরকার। ফাইজারের টিকা যেহেতু খুব ঠান্ডায় সংরক্ষণ করতে হয় তাই সেই মতো কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) তত্ত্বাবধানে টিকাকরণ চলবে।
জার্মান বায়োটেকনোলজি ফার্ম বায়োএনটেক এসই-র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কোভিড ভ্যাকসিন বানিয়েছে ফাইজার। মোডার্নার মতোই বার্তাবহ আরএনএ বা মেসেঞ্জার আরএনএ সিকুয়েন্সকে কাজে লাগিয়ে টিকা তৈরি করা হয়েছে। আরএনএ ভ্যাকসিন ক্যানডিডেটের নাম BNT162। এই ভ্যাকসিন দেহকোষকে ভাইরাল প্রোটিন তৈরিতে বাধ্য করে যাতে তার প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি শরীরেই তৈরি হয়ে যায়। অর্থাৎ টিকা শরীরে ঢুকলে করোনার স্পাইক প্রোটিনের নকল করবে। তখন দেহের ইমিউন কোষগুলি যথা বি-লিম্ফোসাইট কোষ ও টি-কোষ এর প্রতিরোধে সুরক্ষা কবচ তৈরি করবে। বি-কোষ বিভাজিত হয়ে প্লাজমা বা রক্তরসে অ্যান্টিবডি তৈরি করবে এবং ঘাতক টি-কোষ সক্রিয় হয়ে সংক্রামিত কোষ সমেত ভাইরাসকে নির্মূল করবে। এই গবেষণার নেতৃত্বে রয়েছেন জার্মানির বায়োএনটেকের অধ্যাপক উগার সাহিন। তিনি বলেছেন, এই টিকার প্রভাবে শরীরে অ্যাডপটিভ ইমিউন রেসপন্স তৈরি হবে তা টিকে থাকবে বহুদিন।
ফাইজারের টিকার কার্যকারিতা নিয়ে এখনও অবধি কোনও প্রশ্ন ওঠেনি। সমস্যা তৈরি হয়েছে টিকার সংরক্ষণ নিয়ে। কারণ এই টিকা মাইনাস ৭০ ডিগ্রি বা মাইনাস ৯৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটে রাখতে হয়, যে ব্যবস্থা অনেক দেশেই নেই। ফাইজারের টিকার বিতরণ প্রথম ব্রিটেনেই হয়েছে। এর পরে দ্বিতীয় দেশ হিসেবে বাহরাইনে পৌঁছে গেছে ফাইজারের টিকা। সে দিক থেকে এখনও পিছিয়ে আছে ভারত। যদিও লুক্সেমবার্গের সংস্থা বি-মেডিক্যাল সিস্টেমের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে ভারতের। এই সংস্থা মাইনাস ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা অবধি কোল্ড-চেনের ব্যবস্থা করতে পারে। তেমন পরিকাঠামো তারা তৈরি করতে পারলে হয়তো ফাইজারের টিকাও চলে আসতে পারে ভারতে।