দ্য ওয়াল ব্যুরো : উপগ্রহের নাম হাইসিস। হাইপার স্পেকট্রাল ইমেজিং স্যাটেলাইট। বৃহস্পতিবার সকালে শ্রীহরিকোটা থেকে মহাকাশের উদ্দেশে উড়ে গেল ইসরোর নতুন স্যাটেলাইট। তার আছে সুপার শার্প আই। অর্থাৎ অতি শক্তিশালী দর্শনেন্দ্রিয়। তা দিয়ে মহাকাশ থেকে পৃথিবীর হাই রেজলিউশন ছবি তোলা যাবে। অন্যান্য ছবির চেয়ে তা হবে অনেক স্পষ্ট। তা থেকে অনেক নতুন তথ্য পাবেন গবেষকরা।
হাইসিসের মধ্যে প্রধান যে যন্ত্রটি আছে, জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্রের নামে তার নাম দেওয়া হয়েছে ছোটা ভীম। যন্ত্রের ওজন ৩৮০ কেজি।
এই রকেটের আয়তন বিশাল। তার মধ্যে আছে আরও ছোট ছোট ৩০ টি রকেট। সেগুলি ভিন দেশের। মোট আটটি দেশ ইসরোর মাধ্যমে নিজেদের উপগ্রহ মহাকাশে পাঠাচ্ছে। তাদের মধ্যে রয়েছে আমেরিকাও।
অন্ধ্রের শ্রীহরিকোটায় সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে উড়ে গিয়ে দু’টি কক্ষপথে ৩১ টি স্যাটেলাইট পাঠাবে হাইসিস। প্রথমে সে পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে উঠবে ৬৩৬ কিলোমিটার ওপরে। তারপরে নেমে আসবে ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি নীচে। পৃথিবী থেকে ৫০৪ কিলোমিটার উঁচুতে ছোট স্যাটেলাইটগুলি বেরিয়ে যাবে হাইসিস থেকে। পুরো প্রক্রিয়াটি ঘটতে লাগবে ১১২ মিনিট।
ইসরো বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ৬৩৬ কিলোমিটার উঁচুতে এক কক্ষপথ দিয়ে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করবে হাইসিস। তার জীবনকাল পাঁচ বছর। পৃথিবীপৃষ্ঠের নিখুঁত ছবি তোলাই তার লক্ষ।
২০০৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ইসরো একদিনে ১০৪ টি স্যাটেলাইট পাঠিয়েছিল। এটা রেকর্ড। আর কোনও দেশ একইবারে এতগুলি উপগ্রহ পাঠাতে পারেনি।
ইসরোর চেয়ারম্যান কে সিভান বলেন, হাইসিসের মতো স্যাটেলাইট সম্পূর্ণ একার চেষ্টায় খুব কম দেশই বানাতে পেরেছে। অনেক দেশ মহাকাশে হাইপার স্পেকট্রাল ক্যামেরা পাঠিয়েছে বটে কিন্তু তাতে ভালো ছবি আসেনি। আমাদের উপগ্রহে আছে একটি মাইক্রো ও ২৯ টি ন্যানো স্যাটেলাইট।
১৯৭৫ সালে প্রথম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠিয়েছিল ভারত। তখন সাহায্য করেছিল রাশিয়া। উপগ্রহের নাম ছিল আর্যভট্ট। ১৯ এপ্রিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের কাপুসটিন ইয়ার থেকে কসমস থ্রি এম যানের মাধ্যমে তাকে মহাকাশে পাঠানো হয়। এর পরে ভারত নিজের চেষ্টায় রোহিনী সিরিজের রকেট বানাতে শুরু করে।
গত কয়েক দশকে মহাকাশ গবেষণায় বহুদূর এগিয়েছে ভারত। এখন আমেরিকার মতো দেশও ভারতের মাধ্যমে নিজেদের স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠায়।