দ্য ওয়াল ব্যুরো: তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে অভিবাসন নিয়ে 'জিরো টলারেন্স' নীতি থেকে সরে এসেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঘোষণা করেছিলেন বেআইনিভাবে সীমান্ত পেরিয়ে যে পরিবারগুলি আমেরিকায় ঢুকেছে, তাদের শিশুদের আর মা-বাবাদের থেকে আলাদা রাখা হবে না। কিন্তু তার পরেও উদ্বাস্তুদের সমস্যা কতদূর মিটবে তা নিয়ে সন্দেহ ছিল আন্তর্জাতিক মহলের।
সেই সন্দেহই পরিণত হল বাস্তবে। জানা গিয়েছে, ট্রাম্পের এই অভিবাসন নীতির ফলে ভারতীয় বংশোদ্ভূত বছর ৩৩-এর ভাবন প্যাটেলকেও আলাদা থাকতে হচ্ছে তাঁর বছর পাঁচেকের শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলের থেকে। মেক্সিকো থেকে বেআইনি ভাবে আমেরিকায় প্রবেশ করেছিলেন ভাবন। তাঁকে অ্যারিজোনার এক শিবিরে আটকে রাখা হয়।
ভাবনের আইনজীবী আলিঙ্কা রবিনসন অ্যারিজোনা আদালতে জানান, তাঁর প্রতিবন্ধী ছেলে মায়ের থেকে আলাদা হয়ে খুব কষ্টে আছে। ব্যক্তিগত বন্ডে যেন ভাবনকে তাঁর ছেলের সঙ্গে থাকার অনুমতি দেওয়া হোক। কিন্তু ইউএস অভিবাসন দফতর থেকে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়, জামিন পেলে ভাবন পালিয়ে যেতে পারেন। এমনকী আমেরিকায় অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে তিনি কোনও স্মাগলারকে টাকা দিয়েছেন কিনা সেই প্রশ্ন করা হয় ভাবনকে।
উত্তরে ভাবন জানান, আমেদাবাদ থেকে পালিয়ে প্রথমে গ্রীস, তারপর মেক্সিকো হয়ে আমেরিকায় প্রবেশ করেন তিনি। গোটা ব্যবস্থাটাই তাঁর ভাই করে দিয়েছে। অন্য কারও সাহায্য তিনি নেননি। এই মুহূর্তে ভারতে পাঠিয়ে দিলে তাঁর প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কা আছে বলেও জানান ভাবন।
এই কথা শোনার পর অ্যারিজোনা আদালত ব্যক্তিগত ৩০ হাজার টাকা বন্ডে তাঁকে জামিন দেন। কিন্তু ভাবন তাঁর ছেলের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন কি না সে বিষয়ে আদালত থেকে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।
এই মুহূর্তে প্রায় ২৩০০ শিশু আমেরিকার বিভিন্ন শিবিরে তাঁদের বাবা-মায়েদের থেকে আলাদা হয়ে দিন কাটাচ্ছেন। ভারতীয় হিসেবে এই প্রথম কারও নাম সামনে এল। যদিও সম্প্রতি বিভিন্ন মার্কিন মিডিয়ার তরফে বলা হয়েছে, প্রায় ২০০ ভারতীয় শিশু ওয়াশিংটন, মেক্সিকো, অরিগন এবং পেনসিলভেনিয়ার শিবিরে রয়েছে। বেশিরভাগই পাঞ্জাব ও গুজরাটের।
ওয়াশিংটনের ভারতীয় দূতাবাসের তরফে বিভিন্ন শিবিরে প্রতিনিধি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে এইসব শিবিরে থাকা ভারতীয়দের সঠিক সংখ্যা জেনে তাঁদের কীভাবে সেখান থেকে বের করে আনা হবে তার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। ভাবনের এই ঘটনা সামনে আসার পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের দিকেই আঙুল উঠেছে। প্রশ্ন উঠছে, চাপে পড়ে 'জিরো টলারেন্স' নীতি থেকে সরে আশার যে ঘোষণা তিনি করেছেন, তার বাস্তবায়ন আদৌ হবে কি?