আদ্রা ডিভিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩০ জানুয়ারি থেকে ১৮১৮২ (থাওয়ে–টাটা) এক্সপ্রেস বরাভূম ও বার্নপুর স্টেশনে থামবে। একই দিন থেকে ৬৩৫২০ (বোকারো–আসানসোল) প্যাসেঞ্জার বেগুনকোদর ও পুন্দাগে, ১৮১৮১ (টাটা–থাওয়ে) এক্সপ্রেস বার্নপুরে, ৬৩৫২০ (বোকারো–বার্নপুর) প্যাসেঞ্জার ঝালদায় এবং ৬৮০৬১ (আদ্রা–আসানসোল) প্যাসেঞ্জার মুরাডি স্টেশনে স্টপেজ পাবে। ৩১ জানুয়ারি থেকে ৬৮০৭৬ (ভোজুডি–আদ্রা) প্যাসেঞ্জার রুকনি স্টেশনে এবং ১৮০১২ (চক্রধরপুর–হাওড়া) এক্সপ্রেস ফুলেশ্বরে থামবে।
আদ্রা ডিভিশনের সিনিয়র ডিভিশনাল কমার্শিয়াল ম্যানেজার বিকাশ কুমার বলেন, “কয়েকটি ট্রেনের বিভিন্ন স্টেশনে স্টপেজ দেওয়ার নির্দেশ এসেছে। নির্ধারিত দিন থেকেই সেই নির্দেশ কার্যকর হবে।”
রেল সূত্রে খবর, ট্রেন পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বারবার ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি পুরুলিয়ায় জনসভা থেকেও বিষয়টি তুলে ধরেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সামনে বিধানসভা ভোট থাকায় রেল পরিষেবা নিয়ে চাপ বাড়াচ্ছেন বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধিরাও।
রেল যাত্রীদের কথায়, আদ্রা–আসানসোল প্যাসেঞ্জার ট্রেন থেকে মুরাডি স্টপেজ তুলে নেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল স্থানীয়দের। আন্দোলন ও ডেপুটেশনের জেরে শেষ পর্যন্ত রেলকে পিছু হটতে হয়েছে। অন্যদিকে, পাড়ার বিজেপি বিধায়ক নদীয়ার চাঁদ বাউরির দাবি, ভোজুডি–আদ্রা প্যাসেঞ্জার ট্রেনের রুকনি স্টপেজের জন্য দীর্ঘদিন আন্দোলন করা হয়েছিল। “শেষ পর্যন্ত রেল দাবি মানতে বাধ্য হয়েছে,” বলেন তিনি।
তবে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি উজ্জ্বল কুমারের বক্তব্য, “স্টপেজ বাড়ালেই সমস্যা মেটে না। বেশিরভাগ ট্রেন সময়মতো চলে না। সাপ্তাহিক ব্লকের নামে একাধিক ট্রেন পরিষেবা বন্ধ রাখা হচ্ছে। এই অবস্থায় আন্দোলন চলবেই।”
আদ্রা ডিভিশনে রেলের এই সিদ্ধান্তে আপাতত স্বস্তি মিললেও, যাত্রীদের অভিযোগের তালিকা যে এখনও বেশ লম্বা—তা রেললাইনের ধারে দাঁড়ালেই স্পষ্ট হয়ে যায়।