দ্য ওয়াল ব্যুরো: হেভিওয়েট মন্ত্রী ছিলেন শেষ লোকসভায়। বিদেশমন্ত্রী। কিন্তু বিদেশে বিপদে পড়লে ভারতীয়দের পাশে সবসময় থাকতেন তিনি। শুধু ভারতীয়ই নয়, জরুরি ও মেডিক্যাল কারণে ভারতে আসার দরকার থাকলে বিদেশিদেরও দ্রুত ভিসা পেতে সাহায্য করেছেন বহুবার।
সদ্যপ্রয়াত প্রাক্তন বিদেশ মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ছিলেন এমন এক জন কাছের লোক। যাঁকে দরকারে সহজেই পাওয়া যায়-- যাকে বলে অ্যাকসেসেবল অ্যান্ড অ্যাপ্রোচেবল। টুইটে মানবিক ও মজার জবাবও দিতেন তিনি, যার থেকে তাঁর মমত্ব ও রসবোধের পরিচয় পাওয়া যেত। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অভিনন্দন জানিয়ে শেষ টুইটটি করেন। টুইটারে তাঁর ফলোয়ারের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৩০ লক্ষ। তাঁর শেষ টুইটটি দেড় লক্ষটি লাইক পেয়েছে, রিটুইট হয়েছে ৩৭ হাজার বার। তাঁর মজার টুইটগুলি ভাইরাল হয়ে গেছে অনেকবার।
https://twitter.com/SushmaSwaraj/status/1158737840752037889
এ হেন রকস্টার বিদেশমন্ত্রীকে শ্রদ্ধা করতেন প্রায় সকলেই।
সুষমার পাঁচটি টুইট ও তাকে ঘিরে ঘটনা দেখে নেওয়া যাক, যেখানে তাঁর অপার রসবোধের পরিচয় পাওয়া যায়
১) ক্যান ফলো ইংলিশ অফ অল অ্যাকসেন্টস অ্যান্ড গ্রামার
একবার মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী এক ভারতীয় সুষমার কাছে তাঁর বন্ধুর জন্য কিছু সাহায্য চান। সেই বন্ধু আবার ভারতে থাকতেন। মালয়েশিয়ার সেই ব্যক্তির টুইটে ব্যাকরণগত ভুল ছিল। তা দেখে আর এক জন টুইটে লেখেন ভুল ইংরেজিতে না লিখে সুষমাকে বরং হিন্দি বা পাঞ্জাবিতে লিখলে ভালো হয়। এর জবাবে সুষমা লেখেন, “কোনও সমস্যা নেই। বিদেশমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে আমি সবরকম উচ্চারণ ও ব্যাকরণের ইংলিশ বুঝতে পারি।”
২) ডুয়িং চৌকিদারি অফ ইন্ডিয়ান ইন্টারেস্টস
সুষমা ছিলেন দ্বিতীয় মহিলা বিদেশ মন্ত্রী। প্রথম ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। এক জন তাঁকে টুইটে প্রশ্ন করেন, কেন তিনি নামের আগে চৌকিদার কথাটা লিখছেন। তাঁকে জবাব দিয়ে সুষমা লেখেন, “কারণ আমি ভারতের ও বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের স্বার্থ পাহারা দিচ্ছি। চৌকিদারি করছি।” জার্মানিতে এক দম্পতিকে কেউ ছুরি মারে, সেই প্রসঙ্গটি জানিয়ে টুইট করেছিলেন সুষমা। একজন একটি টুইটে লেখেন যে সুষমা নিশ্চয়ই নিজে টুইট করছেন না, কোনও পাবলিক রিলেশন এজেন্সি তাঁর হয়ে টুইট করে দিচ্ছে। জবাবে সুষমা লেখেন, “নিশ্চিন্ত থাকুন আমি নিজেই টুইট করছি--আমার ভূত নয়।”
৩) ইভেন ইফ ইউ আর স্টাক অন মার্স
কেউ বিপদে পড়ে টুইট করলে সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিতেন ও সাহায্য করতেন সুষমা। একবার এক জন টুইটে সাহায্য চেয়ে লেখেন যে তিনি মঙ্গলগ্রহে আটকে পড়েছেন। সুষমা তাঁকে আশ্বস্ত করে লেখেন, যেখানেই তিনি আটকে পড়ুন, তাঁকে সাহায্য করা হবে। “আপনি মঙ্গলগ্রহে আটকে পড়লেও অসুবিধা নেই সেখানকার ভারতীয় দূতাবাস আপনাকে সাহায্য করবে।”
https://twitter.com/SushmaSwaraj/status/872653636849082368
৪) ম্যাটার অফ রেফ্রিজারেটর
সহজে তাঁকে পাওয়া যেত বলে অনেক সময় লোকজন অপ্রয়োজনীয় ও হাস্যকর কারণেও টুইট করে সাহায্য চাইতেন। একবার একজন তাঁর খারাপ রেফ্রিজারেটর সারানোর ব্যাপারে সাহায্য চেয়ে টুইট করেছিলেন। তাতে কিন্তু একটুও রেগে না গিয়ে সুষমা লিখেছিলেন, “ভাই, আমি আপনার রেফ্রিজারেটর নিয়ে সাহায্য করতে পারব না। আমি এখন বিপদে পড়া মানুষদের নিয়ে ব্যস্ত আছি।”
https://twitter.com/SushmaSwaraj/status/742394908145655808
৫) সুষমা স্কিপস ওথ
২০১৬ সালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা রদবদলের পর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি সুষমা। সেই সময় মিডিয়াকে উদ্দেশ করে মজা করে টুইট করেছিলেন সুষমা। লিখেছিলেন, “মিডিয়া-- সুষমা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে গেলেন না --প্লিজ় এই শিরোনামটা এড়িয়ে চলুন। মিডিয়া প্লিজ় অ্যাভয়েড দ্য হেডলাইন : সুষমা স্কিপস ওথ”