নিয়ন্ত্রণরেখা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সুরক্ষায় তৈরি হচ্ছে কয়েক হাজার বাঙ্কার
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু ও কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের রক্ষায় মাটি খুঁড়ে ১৪ হাজার নিরাপদ বাঙ্কার নির্মাণ শুরু করছে প্রশাসন। বোমা হামলা হলে ওই এলাকার বাসিন্দারা ওই সব বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়ে প্রাণ বাঁচাতে পারবে বলে দাবি করেছে
শেষ আপডেট: 27 February 2019 22:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু ও কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের রক্ষায় মাটি খুঁড়ে ১৪ হাজার নিরাপদ বাঙ্কার নির্মাণ শুরু করছে প্রশাসন। বোমা হামলা হলে ওই এলাকার বাসিন্দারা ওই সব বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়ে প্রাণ বাঁচাতে পারবে বলে দাবি করেছে তারা।
সূত্রের খবর, ইট,পাথর আর লোহা দিয়ে তৈরি অতগুলো বাঙ্কার বানাতে ৫০ কোটি টাকা মতো খরচ হতে পারে। স্থানীয় ঘরবাড়ির চেয়ে তিন গুণ পুরু দেওয়াল ও ছাদ দিয়ে মাটির নীচের এই বাঙ্কারগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার ভোরে ভারতীয় বায়ুসেনার প্রত্যাঘাতে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বালাকোটে জইশ শিবির ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পরে সে দিন সন্ধ্যা থেকেই নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ভারি বোমা বর্ষণ করে পাকিস্তান। ভারতও পাল্টা বোমা জবাব দেয় বলে জানা গিয়েছে সেনা সূত্রে।
এই অবস্থায় ওই সব এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে রোজ। পুঞ্চ জেলার ডিএম রাহুল যাদব বলেন, "গত সপ্তাহে নতুন করে এই সব শেল্টার নির্মাণের কাজে হাত দেওয়া হয়েছে। সীমান্তে বাঙ্কার নির্মাণের এই প্রকল্পটি যদিও গত বছরের জুনে শুরু হয়। দু'পক্ষ যখন বোমা বর্ষণ শুরু করে, তাতে স্থানীয়দের ঘরবাড়ি ছেড়ে ছোটাছুটি করতে হয়। তাই তাঁদের সুবিধায় এমন পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।"
সীমান্ত-সংলগ্ন গ্রামগুলোর বাসিন্দারা জানান, তারা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে পালাতে ক্লান্ত। স্থানীয় গরিব কৃষক পরিবারগুলো তাদের গবাদিপশু ও ফসল ফেলে রেখে বারবার এলাকা ছেড়ে পালাতে গিয়ে যে কতটা ক্ষতির মুখে পড়েন তা অবর্ণনীয়।
চাচওয়াল গ্রামের ৭৫ বছর বয়সি বাসিন্দা তানাত্তার সিং বলেন, "২০০২ সালে বাড়ির সামনে গুলি খেয়ে মারা গেছে আমার মেয়ে। তার পরেও কম বার দেখিনি গোলাগুলি, রোজ লেগে আছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে থাকি আমরা।" গমক্ষেতে ঘেরা বাড়ির দেওয়ালে হাত রেখে জানালেন, বাড়ি বাঁচাতে পারব না। প্রাণ তো বাঁচাতে হবে।
তানাত্তার সিং জানান, তাঁদের গ্রামের চারশো পরিবারের জন্য একটি বাঙ্কার নির্মাণ করা হবে। মাটি খোঁড়া হচ্ছে। এগুলোর কিছু কিছু জলের নীচে, কিছু চাষের জমির মধ্যে আবার কিছু আছে বাড়িঘরের আশপাশে।
পরিস্থিতি রোজই খারাপ হচ্ছে। মৃত্যুভয় জাঁকিয়ে বসছে উপত্যকার আনাচকানাচে। ভয় যুদ্ধের, ভয় হামলায়। প্রাণ বাঁচানোর প্রশ্নে আর কোনও রকমের সংশয়ের অবকাশ রাখতে চাইছেন না স্থানীয়রা। তাই প্রয়োজন পড়লে নিজের বাড়ির ছেড়ে বাঙ্কারে গিয়ে থাকাকেও ঠিক বলে মনে করছেন তাঁরা।