কোনও পূর্ব নোটিশ ছাড়াই তার বাড়িতে স্মার্ট মিটার বসানো হয় এবং তার পর থেকেই শুরু হয় এই অস্বাভাবিক বিল-যন্ত্রণা।ভুক্তভোগী সুশান্ত জোসেফ পেশায় অধ্যাপক। মে মাসে তাঁর বিদ্যুৎ বিল ছিল ১০৫৭ টাকা, এরপর ১৯ মে তাঁর অনুমতি ছাড়াই বাড়িতে বসানো হয় স্মার্ট মিটার।

Smart meter
শেষ আপডেট: 5 August 2025 16:52
দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ স্মার্ট মিটার বসানোর পর আচমকা প্রায় ১২ হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল! এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে হুগলির সাহাগঞ্জে। অভিযোগকারীর দাবি, কোনও পূর্ব নোটিশ ছাড়াই তার বাড়িতে স্মার্ট মিটার বসানো হয় এবং তার পর থেকেই শুরু হয় এই অস্বাভাবিক বিল-যন্ত্রণা।
ভুক্তভোগী সুশান্ত জোসেফ পেশায় অধ্যাপক। মে মাসে তাঁর বিদ্যুৎ বিল ছিল ১০৫৭ টাকা, যা তিনি নিয়মমাফিক পরিশোধ করেন ৭ই মে। এরপর ১৯ মে তাঁর অনুমতি ছাড়াই বাড়িতে বসানো হয় স্মার্ট মিটার।
২ জুন তাঁর মোবাইলে একটি মেসেজ আসে, যেখানে বলা হয় জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল বাবদ বকেয়া রয়েছে ১১,৯৮৪ টাকা। এমন একটি অঙ্ক দেখে কার্যত হতবাক হয়ে যান তিনি। বিষয়টি অবিলম্বে জানান বিদ্যুৎ দপ্তরকে। ৩ জুন একটি লিখিত অভিযোগও দাখিল করেন বালিমোর অফিসে।
তবে অভিযোগ জানানোর পরও কোনও সদুত্তর মেলেনি। বরং, ১৬ জুলাই তারিখে তাঁকে পাঠানো হয় একটি নোটিশ, যেখানে জানানো হয় যে, ৭ জুলাইয়ের মধ্যে ১২,০৯৪ টাকা না মেটালে তাঁর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে।
এই ঘটনার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সুশান্ত জোসেফ। তাঁর বক্তব্য, “আমি ন্যায্য বিল দিতে প্রস্তুত, কিন্তু এমন একটি মিটার বসিয়ে তার পর এই অস্বাভাবিক বিল চাপানো অত্যন্ত অন্যায়। এটা একপ্রকার মানসিক হেনস্থা।”
তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, স্মার্ট মিটার অপসারণ করে তাঁর পুরনো মিটার পুনঃস্থাপন করতে হবে এবং প্রকৃত ইউনিট খরচ অনুসারে নতুন করে সঠিক বিল পাঠাতে হবে। অন্যথায় তিনি আইনি পথে হাঁটবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ঘটনার পর থেকে স্থানীয় মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রাও। তাঁদের প্রশ্ন, স্মার্ট মিটারের নামে সাধারণ মানুষকে কেন এমনভাবে বিপাকে ফেলা হচ্ছে?
দ্য ওয়ালের সাংবাদিককে সুশান্ত জোসেফ জানিয়েছেন, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিদ্যুৎ দপ্তরের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।