অর্জুনকে পাশে বসিয়ে মৃন্ময় বলেন, “ছায়াসঙ্গীর কথা যত কম বলা যায় ততই ভাল। খাদ্যমন্ত্রী হয়ে গরিব মানুষের চাল চুরি করেছে। এখন গরিব মানুষই তোলাবাজদের লিস্ট বানাতে শুরু করেছে—কে কার কাছ থেকে কত টাকা নিয়েছে।”
.jpeg.webp)
তৃণমূল কাউন্সিলর শ্রাবণী কাশ্যপর বাড়িতে অর্জুন সিং। - নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 22 December 2025 19:26
প্রতীতি ঘোষ, ব্যারাকপুর: ভোটের আবহে ব্যারাকপুরে (Barrackpore) শাসকদলের অস্বস্তি বাড়াল নতুন দলবদলের ইঙ্গিত। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর শ্রাবণী কাশ্যপ (Counsilor)। তাঁর সঙ্গে দলবদলের পথে হাঁটছেন স্বামী মৃন্ময় কাশ্যপও (একদা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের (Jyotipriya Mallick) ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত ছিলেন)। রাজনৈতিক মহলে এই ঘোষণা ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
সোমবার শ্রাবণী ও মৃন্ময়ের বাড়িতে হাজির হন ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ ও বিজেপি নেতা অর্জুন সিং (Arjun Sing)। তাঁর উপস্থিতিতেই কোনও রাখঢাক না রেখে তৃণমূল ছাড়ার সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আনেন দম্পতি। শ্রাবণী স্পষ্ট জানান, “অর্জুন সিংয়ের নেতৃত্বেই আমরা বিজেপিতে (bjp) যাব। তৃণমূলে থেকে যেভাবে অপমানিত ও অবহেলিত হয়েছি, তাতে আর থাকা সম্ভব নয়।”
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয়েছিলেন শ্রাবণী। পুরসভার কাজে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। এদিনও পুরপ্রধান মলয় ঘোষের দিকে তোপ দেগে শ্রাবণী বলেন, পুরসভার কাজকর্মে স্বচ্ছতা নেই, উন্নয়নের নাম করে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
শ্রাবণীর স্বামী মৃন্ময় কাশ্যপ একসময় রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ‘ছায়াসঙ্গী’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সেই সূত্রেই গত বছর তাঁর বাড়িতে সিবিআই ও ইডির তল্লাশি হয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। রবিবার অর্জুন সিংয়ের পাশে বসেই জ্যোতিপ্রিয়কে কটাক্ষ করেন মৃন্ময়। তাঁর কথায়, “ছায়াসঙ্গীর কথা যত কম বলা যায় ততই ভাল। খাদ্যমন্ত্রী হয়ে গরিব মানুষের চাল চুরি করেছে। এখন গরিব মানুষই তোলাবাজদের লিস্ট বানাতে শুরু করেছে—কে কার কাছ থেকে কত টাকা নিয়েছে।”
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে মৃন্ময় জানান, সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলেও সময় এখনই বলতে চান না। তাঁর বক্তব্য, “বিজেপি অনেক বড় দল। তৃণমূলের মতো নয়। এখানে সব কিছু একটা সিস্টেম মেনে হয়।”
অন্যদিকে অর্জুন সিং বলেন, “যাঁরা তৃণমূলের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন, আমি তাঁদের পাশে আছি। তৃণমূলে থেকে কাজ করতে সমস্যা হলে তাঁরা আমাদের সঙ্গে আসতে পারেন।”
যদিও এই দলবদলকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, ব্যক্তিগত অসন্তোষ থেকেই এই সিদ্ধান্ত, এতে সংগঠনে কোনও প্রভাব পড়বে না। তবে ভোটের মুখে ব্যারাকপুরে শাসকদলের ঘরে যে ফাটল ধরল, তা মানছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।