দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিনটা ২৫ জুলাই। মধ্যরাত পর্যন্ত সব ঠিকঠাক এগোচ্ছিল। হঠাৎ করেই তাল কাটল। পাকিস্তান ইলেকশন কমিশন থেকে জানানো হলো ভোট গণনার অত্যাধুনিক পদ্ধতি আর.টি.এস বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাই বাকি ভোট গণনা হবে ম্যানুয়ালি। এখানেই প্রমাদ গনেছিল বাকি দলগুলো। হাতে গোনার আড়ালে কোনও কারচুপি চলছে না তো!
ভোটের ফল সামনে আসার পর তো পাকিস্তান পিপলস পার্টি, পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের তরফে দাবি করা হচ্ছে তাঁরা নিশ্চিত ভোট গণনায় কারচুপি হয়েছে। তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন তাঁরা। আর এই বিতর্কের মাঝেই পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের যাত্রা শুরুর পথে ইমরান খান।
পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের ভোট গণনার দায়িত্ব ছিল মূলত আর.টি.এস প্রযুক্তির উপর। এর সাহায্যে খুব তাড়াতাড়ি জানা যাবে ভোটের ফল, এমনটাই জানিয়েছিল এই প্রযুক্তির উদ্ভাবক ন্যাশনাল ডেটাবেস অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন অথরিটি (নাড্রা)। কিন্তু ভোট গণনা চলাকালীন হঠাৎ করেই পাকিস্তান নির্বাচন কমিশনের সেক্রেটারি বাবর ইয়াকুব ফতেহ মহম্মদ ঘোষণা করেন আর.টি.এস প্রযুক্তিতে সমস্যা হয়েছে। তাই হাতেই গোনা হবে বাকি ভোট।
আর এখানেই আপত্তি জানিয়েছে নাড্রা। এই সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, আর.টি.এস পদ্ধতিতে কোনও সমস্যা হয়নি। কিন্তু হঠাৎ করে মাঝপথে কেন এই পদ্ধতির ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া হলো তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। এমনকী এই পদ্ধতির ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়ার আগে পর্যন্ত তাঁদের কাছে ৫০ শতাংশ ভোটের ফল চলে এসেছিল বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
এই প্রসঙ্গে পাকিস্তান নির্বাচন কমিশনের সূত্রে জানানো হয়েছে, যদি নাড্রার প্রযুক্তিতে কোনও গলদ না থাকে আর তাঁদের কাছে ৫০ শতাংশ ভোটের ফল এসে গিয়ে থাকে, তাহলে সেটা তখন কেন বললেন না তাঁরা। ভোটের ফল ঘোষণার সাত দিন পরে এইসব কথা বলার কী মানে।
এর মধ্যেই ১১ আগস্ট পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদে শপথ নেবেন ইমরান খান। সেই অনুষ্ঠানে বলিউড তারকা আমির খান, ক্রিকেটার কপিল দেব, সুনীল গাভাসকার ও নভজ্যোৎ সিং সিধুকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এমনকী সিধু তো সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে ধন্যবাদ পর্যন্ত জানিয়েছেন ইমরানকে।
খেলোয়াড় জীবনে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী হলেও কপিল দেব, গাভাসকার বা সিধুর সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক ছিল ইমরানের। কারণ গাভাসকার ও কপিল দেবের বিরুদ্ধে একই সময়ে অধিনায়কত্ব করেছেন ইমরান। আবার গাভাসকার ও সিধু ওপেনার হওয়ার সুবাদে তাঁদের বিরুদ্ধে অনেকবার হাত ঘুরিয়েছেন পাকিস্তানের হবু প্রধানমন্ত্রী।
গাভাসকার, কপিল, সিধুরা হয়তো বন্ধু ইমরানের আমন্ত্রণ রক্ষায় তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যাবেন। কিন্তু পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশ ও ভোটগণনায় কারচুপির অভিযোগ ইমরানের জীবনের এই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিনেও পিছু ছাড়ল না। বিতর্কের মধ্যেই নতুন ইনিংস শুরু করতে চলেছেন ইমরান খান। যে ইমরানকে 'দৃঢ় চরিত্রের মানুষ' বলেছেন সিধু, তাঁর 'রাজনৈতিক চরিত্র' নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা।