যদিও এই সম্ভাবনা আঁচ করে আগাম পদক্ষেপ হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) ক্যাভিয়েট দাখিল করে রাজ্য সরকার (West Bengal)।

গ্রাফিক্স: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 10 January 2026 16:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আদালত কক্ষে তুমুল হইচই এবং বিশৃঙ্খলার জেরে শুক্রবার স্থগিত হয়ে গিয়েছিল তৃণমূল (TMC) বনাম ইডি (ED) মামলার শুনানি। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে কলকাতা হাইকোর্টে (Kolkata High Court) মামলাটি পিছিয়ে দেওয়া হয়। সে সবের মধ্যেই দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে ই-মেল করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED Raid IPAC)। তবে সেই আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। এর পরেই এবার শীর্ষ আদালতের (Supreme Court) দ্বারস্থ হল ইডি। যদিও এই সম্ভাবনা আঁচ করে আগাম পদক্ষেপ হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) ক্যাভিয়েট দাখিল করে রাজ্য সরকার (West Bengal)।
আইনজীবী মহলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ক্যাভিয়েট দাখিলের অর্থ হল— প্রতিপক্ষ যাতে একতরফা ভাবে কোনও আইনি সুবিধা আদায় করতে না পারে এবং রাজ্যকে না জানিয়ে যাতে কোনও নির্দেশ না দেওয়া হয়। ইডি আগেভাগেই সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারে, সেই আশঙ্কা থেকেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে।
শুক্রবার দুপুর প্রায় আড়াইটে নাগাদ কলকাতা হাইকোর্টের (Kolkata High Court) এজলাসে মামলার শুনানি শুরু হয়। কিন্তু তার মধ্যেই আদালত কক্ষে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ বার বার শান্ত থাকার নির্দেশ দিলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) নিজেও মাইক হাতে নিয়ে সকলকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান। তবু হইচই থামেনি। শেষ পর্যন্ত বিচারপতি জানান, মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ১৪ জানুয়ারি।
এর মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) আবেদন জানায় রাজ্য। তাদের অভিযোগ, তদন্তের নামে কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে ইডি জানিয়েছে, তল্লাশি অভিযানের সময় মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। সেই সময় যেভাবে নথি বা ফাইল সরানো হয়েছে, তা আদালতের নজরে আনা প্রয়োজন বলে দাবি সংস্থার। পাশাপাশি সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবিও তুলেছে ইডি। রাজ্য পুলিশের উপর আস্থা নেই বলেই তাদের বক্তব্য। সংস্থার দাবি, ঘটনার দিন পুলিশের উপস্থিতিতেই সংশ্লিষ্ট সব নথি সরানো হয়েছিল।
গত বৃহস্পতিবার সকালে ইডির অভিযান শুরু হওয়ার খবর পেয়ে প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনার। কিছুক্ষণ পর মুখ্যমন্ত্রীকে একটি সবুজ ফাইল হাতে বেরোতে দেখা যায়। সেখান থেকে তিনি যান সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরে, যেখানে তল্লাশি চলাকালীনই তাঁর উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
এই ঘটনাকেই তদন্তে বাধা বলে উল্লেখ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে ইডি। ওই মামলায় মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর সঙ্গে থাকা আধিকারিকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানায় কেন্দ্রীয় সংস্থা। তবে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ মামলাটি মুলতুবি রেখে শুনানির দিন ধার্য করেন ১৪ ফেব্রুয়ারি।