এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে নেওয়া হল, যখন আইপ্যাক মামলায় ইডি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারে বলে জোর আলোচনা চলছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, তাদের হাতে থাকা সমস্ত আইনি বিকল্প খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যার মধ্যে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে যাওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।

ছবি - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 10 January 2026 14:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) মধ্যে চলা টানাপোড়েনের আবহে গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার (State Govt)। আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের (Ipac Pratik Jain) বাড়ি ও অফিসে ইডির তল্লাশি (Ipac ED Raid) ঘিরে তৈরি পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) ক্যাভিয়েট দাখিল করল রাজ্য।
এই ক্যাভিয়েট (Caveat) আবেদন দায়ের করেছেন কুণাল মিমানি। রাজ্যের তরফে সুপ্রিম কোর্টকে জানানো হয়েছে, আইপ্যাক সংক্রান্ত কোনও মামলায় যদি শীর্ষ আদালত শুনানি করে, তবে রাজ্য সরকারের বক্তব্য না শুনে যেন কোনও একতরফা নির্দেশ জারি না করা হয়।
এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে নেওয়া হল, যখন আইপ্যাক মামলায় (Ipac Kolkata Raid) ইডি সুপ্রিম কোর্টের (ED at Supreme Court) দ্বারস্থ হতে পারে বলে জোর আলোচনা চলছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, তাদের হাতে থাকা সমস্ত আইনি বিকল্প খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যার মধ্যে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে যাওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।
ইডি সূত্রের খবর, এই মামলায় চূড়ান্ত আইনি কৌশল ঠিক করার আগে দফতরের শীর্ষ আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই লিগ্যাল সেলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন। আইনজীবীদের পরামর্শ মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতর এবং লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশি ঘিরে তৈরি রাজনৈতিক ও আইনি সংঘাত ক্রমেই জটিল আকার নিচ্ছে। সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সঙ্গে থাকা আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্তে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করতে পারে ইডি। খুব শীঘ্রই সেই মামলা দায়ের হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
গত বৃহস্পতিবার সকালে ইডির অভিযান শুরু হওয়ার খবর পেয়ে প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনার। কিছুক্ষণ পর মুখ্যমন্ত্রীকে একটি সবুজ ফাইল হাতে বেরোতে দেখা যায়। সেখান থেকে তিনি যান সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরে, যেখানে তল্লাশি চলাকালীনই তাঁর উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
এই ঘটনাকেই তদন্তে বাধা বলে উল্লেখ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে ইডি। ওই মামলায় মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর সঙ্গে থাকা আধিকারিকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানায় কেন্দ্রীয় সংস্থা। তবে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ মামলাটি মুলতুবি রেখে শুনানির দিন ধার্য করেন ১৪ ফেব্রুয়ারি।
জরুরি শুনানির আবেদন জানিয়ে ইডি প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হলেও আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, যেহেতু মামলাটি একটি নির্দিষ্ট এজলাসে মুলতুবি রয়েছে, তাই তা অন্যত্র স্থানান্তর করা যাবে না। ফলে নির্ধারিত দিনেই মামলার শুনানি হবে।
এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের ক্যাভিয়েট দাখিল নতুন করে আইনি লড়াইয়ের ময়দানকে আরও চওড়া করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও আইন মহল।