সব জল্পনাকে যেন এক ঝটকায় থামিয়ে দিলেন ইমন নিজেই। ভোটে দাঁড়ানোর প্রসঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে তাঁর সোজাসাপটা উত্তর, “চাই না, চাই না, চাই না ব্যস। আমি গান গাইতে চাই, শুধু গান গাইতেই।”

ইমন চক্রবর্তী
শেষ আপডেট: 17 March 2026 16:52
বাংলার গানের জগতে তাঁর কণ্ঠ মানেই এক আলাদা আবহ, এক ধরনের নির্ভেজাল আবেগ। সেই ইমন চক্রবর্তী-কে ঘিরেই হঠাৎ করে তৈরি হয়েছিল রাজনৈতিক উত্তেজনা। শোনা গিয়েছিল, হুগলির উত্তরপাড়া বিধানসভা আসন থেকে তাঁকে প্রার্থী করার প্রস্তাব দিয়েছে তৃণমূল। সাংস্কৃতিক পরিসর থেকে সরাসরি নির্বাচনী ময়দানে— খবরটা ছড়িয়ে পড়তেই কৌতূহল যেমন বেড়েছিল, তেমনই তৈরি হয়েছিল প্রশ্নও।
কিন্তু সেই জল্পনার ভিতরে ছিল একাধিক দ্বিধা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রার্থী হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন ইমন নিজেই। শুধু তা-ই নয়, উত্তরপাড়ার ক্ষেত্রে বিষয়টা আরও জটিল হয়ে উঠেছিল। কারণ, সেই আসনে লড়াইয়ের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ পরিচিত, কমরেড মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গা থেকে সেই লড়াইয়ে নামা তাঁর কাছে স্বস্তিকর ছিল না। এ কথা তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল থেকেই শোনা যাচ্ছিল।
তবে রাজনৈতিক সমীকরণ থেমে থাকে না। তাই খবর ছিল, উত্তরপাড়া না হোক, অন্য কোনও আসনে ইমনকে প্রার্থী করার চেষ্টা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চালিয়ে যাচ্ছিল তৃণমূল শিবির। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই সাংস্কৃতিক জগতের মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে চলেন, এবং ইমনও সেই পরিসরের পরিচিত মুখ। নানা সরকারি ও সাংস্কৃতিক মঞ্চে তাঁকে দেখা গিয়েছে, তাঁর কণ্ঠও বারবার পৌঁছেছে প্রশাসনিক অনুষ্ঠান থেকে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে। ফলে রাজনৈতিক প্রস্তাবটা একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল না।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব জল্পনাকে যেন এক ঝটকায় থামিয়ে দিলেন ইমন নিজেই। ভোটে দাঁড়ানোর প্রসঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে তাঁর সোজাসাপটা উত্তর, “চাই না, চাই না, চাই না ব্যস। আমি গান গাইতে চাই, শুধু গান গাইতেই।”
এই কয়েকটি লাইনের মধ্যেই যেন স্পষ্ট হয়ে যায় তাঁর অবস্থান। রাজনীতি, নির্বাচন, নেতা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা— এই সবকিছুর থেকে অনেক দূরে থাকতে চান তিনি। আলো, মাইক, মঞ্চ, সবই তাঁর চেনা, কিন্তু সেই মঞ্চটা রাজনৈতিক নয়, সম্পূর্ণই সঙ্গীতের।
যথাসময়ে তৃণমূলের প্রার্থীতালিকা ঘোষণা হলে দেখা যায়, যেমনটা ইমন বলেছিলেন, তেমনটাই হয়েছে। তাঁর নাম নেই তালিকায়। এর পরেই ফেসবুকে একটা পোস্ট দেন ইমন। লেখেন, 'বিগত কয়েকমাস ধরে আপনারা আমাকে বিভিন্ন জায়গায় দাঁড় করিয়েছিলেন। এই যেমন উত্তরপাড়া, দক্ষিণপাড়া, বালি, সিমেন্ট, আমতলা, জামতলা ইত্যাদি। কেউ কেউ আবার কেওড়াতলাতেও নিয়ে গিয়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন। এবার আপনাদের কাছে করজোড়ে একটি বিনীত অনুরোধ রাখছি- প্লিজ, আমাকে এবার একটু নিজের পায়ে দাঁড়াতে দিন।'

ইমনের এই সিদ্ধান্তে অবাক হওয়ার কিছু নেই বলেই মনে করছেন অনেকে। কারণ, তাঁর পরিচয়টাই গড়ে উঠেছে শিল্পী হিসেবে। একজন এমন কণ্ঠশিল্পী, যিনি গান দিয়েই মানুষের কাছে পৌঁছাতে চান, কোনও দলীয় প্রতীক নিয়ে নয়। ক্ষমতার করিডোরের চেয়ে শ্রোতার হৃদয়ই তাঁর কাছে বড়।