পাঁশকুড়া, কাঁথি, তমলুক, হলদিয়া, নন্দকুমার ও মহিষাদল থানা এলাকার একাধিক স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। দীপাবলির আগে নিষিদ্ধ বাজির কারবার ঠেকাতে অভিযান আরও তীব্র করা হয়েছে বলেই জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 18 October 2025 12:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীপাবলির (Diwali 2025) মুখে ফের সক্রিয় রাজ্য পুলিশ। শনিবারই ধর্মতলায় (Dharamtala) বিশেষ অভিযান চালিয়ে কলকাতা পুলিশের গুন্ডা দমন শাখা (পুলিশের বিশেষ টিম) প্রচুর নিষিদ্ধ বাজি আটক করেছে। এদিকে পূর্ব মেদিনীপুর (Purba Medinipur) জেলা পুলিশও সক্রিয়। নিষিদ্ধ বাজি ও বাজি তৈরির কাঁচামালের বিরুদ্ধে গত কয়েক দিন ধরেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে চলছে লাগাতার অভিযান। শনিবার পর্যন্ত মোট উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৩ টনের কাছাকাছি বাজি সামগ্রী, গ্রেফতার হয়েছেন ৯ জনের বেশি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পাঁশকুড়া, কাঁথি, তমলুক, হলদিয়া, নন্দকুমার ও মহিষাদল থানা এলাকার একাধিক স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। দীপাবলির আগে নিষিদ্ধ বাজির কারবার ঠেকাতে অভিযান আরও তীব্র করা হয়েছে বলেই জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
গত সাত দিনেই উদ্ধার হয়েছে এক টনের বেশি বাজি ও বাজি তৈরির উপকরণ। এর মধ্যে এগরা থানার পুলিশ একাই বাজেয়াপ্ত করেছে প্রায় ৭ লক্ষ টাকার বাজি। তমলুক থানায় এলাকায় উদ্ধার হয়েছে প্রায় ২৫০ কিলো, নন্দকুমারে ৭৫০ কিলো বাজি।
গত বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কাঁথি থানার আইসি প্রদীপ কুমার দাঁ-র নেতৃত্বে পুলিশ সাতমাইল মিল বাজার এলাকার একটি গুদামে হানা দেয়। সেখানে উদ্ধার হয় ২২ বস্তা ও ৪৮টি কার্টুন বাজি, মোট ওজন প্রায় ১ হাজার ৫৯০ কেজি। ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার হয়েছে পিন্টু মিদ্যা নামে এক ব্যক্তি। বাজি ব্যবসার সঙ্গে আরও কারা যুক্ত, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
জানা গেছে, ২০২৩ সালে এগরার ভয়াবহ বাজি বিস্ফোরণের পর থেকেই পুলিশ ও প্রশাসন বিশেষ সতর্ক। সেই মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতেই জেলা জুড়ে নজরদারি ও অভিযানের তীব্রতা বাড়ানো হয়েছে।
তবে এত বিপুল পরিমাণ বাজি উদ্ধার হওয়ার পর তা নষ্ট করতেই বেজায় সমস্যায় পড়ছে জেলা পুলিশ। নিয়ম অনুযায়ী, বাজি ধ্বংসের আগে আদালতের অনুমতি নিতে হয়। আদালতের নির্দেশে বাজি ধ্বংসের দায়িত্ব দেওয়া হয় হলদিয়ার ‘র্যামকি কোম্পানি’-কে। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রতি কিলো বাজি নষ্ট করতে কোম্পানিকে দিতে হয় ৩৮ টাকা ৫০ পয়সা। ফলে বাজি ধ্বংসের খরচই দাঁড়াচ্ছে মোটা অঙ্কে।