ডিরেক্টর সুমন চক্রবর্তীর কথায়, “আজকের প্রজন্মের একটি অংশ অতিরিক্ত চিন্তায় ভুগছে। পরীক্ষা ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণে তারা ক্রমশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে।”

আইআইটি খড়্গপুর
শেষ আপডেট: 24 September 2025 13:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চলতি বছরে আইআইটি খড়্গপুর (IIT Kharagpur) হোস্টেলে একাধিক পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যুর (student suicide) ঘটনা সামনে এসেছে। এই প্রেক্ষিতে সোমবার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, তারা সমস্যার গভীরে গিয়ে পর্যালোচনা করার জন্য ১০ জন নতুন কাউন্সেলর নিয়োগ (IIT Kharagpur Student Counsellors for Mental Health) করেছে। এর দল ছাত্রছাত্রী ও গবেষকদের সঙ্গে কথা বলবেন, তাঁরা মানসিক চাপ বা অবসাদে (stress and depression) ভুগছেন কিনা, তা বোঝার চেষ্টা করবেন।
আইআইটি খড়্গপুরের ডিরেক্টর সুমন চক্রবর্তী এক সর্বভারতীয় সংবাদসংস্থাকে বলেন, “আগেও আমাদের কাউন্সেলর ছিলেন। তবে এবার আরও ১০ জন পেশাদার কাউন্সেলর নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁরা ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়াবেন, ছাত্রছাত্রীদের বন্ধু হয়ে তাঁদের সমস্যার কথা শুনবেন।”
তিনি আরও বলেন, “কোনও পড়ুয়ার মনের মধ্যে কী চলছে, বাইরে থেকে বোঝা যায় না। যদি কেউ হতাশাগ্রস্ত থাকে, তা বোঝা সম্ভব কেবল আলাপচারিতার মাধ্যমে। তাই আমরা নতুন কাউন্সেলরদের নিয়োগ করেছি, যারা দলগত ও ব্যক্তিগতভাবে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্য বুঝে নেবেন।”
এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে ২০ সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর। ওইদিন রাঁচির বাসিন্দা হর্ষকুমার পাণ্ডের (২৭) (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর পিএইচডি গবেষক) দেহ হোস্টেলের ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় মৃত পাওয়া যায়। চলতি বছরে এই নিয়ে পঞ্চম আত্মহত্যার ঘটনা ঘটল আইআইটি খড়্গপুরে।
ডিরেক্টর সুমন চক্রবর্তীর কথায়, “আজকের প্রজন্মের একটি অংশ অতিরিক্ত চিন্তায় ভুগছে। পরীক্ষা ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণে তারা ক্রমশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে।”
তিনি জানান, হোস্টেলের ঘরে বোর্ডারের দরজায় বারকোড দেওয়া আছে, যা স্ক্যান করলে কাউন্সেলিং নম্বর পাওয়া যায়। ২৪ ঘণ্টাই সেই নম্বর খোলা থাকে। এছাড়া, ‘সেতু’ মোবাইল অ্যাপ, ‘বোর্ড অফ হোপ’, এবং ডিন অফ স্টুডেন্টস ওয়েল বিইং-এর উদ্যোগ চালু করা হয়েছে।
তবে তিনি মনে করিয়ে দেন, “অনেক সময় স্বভাবে ইন্ট্রোভার্ট ছাত্রছাত্রীরা নিজের সমস্যা প্রকাশ করতে চান না। তাই আমরা এই ‘মোবাইল’ কাউন্সেলরদের বিভিন্ন রুম, স্পোর্টস ক্লাব ও পড়ুয়াদের আড্ডার মারার জায়গায় পাঠাচ্ছি। তাঁরা বন্ধুত্বপূর্ণভাবে মিশে বুঝতে পারবেন কে মানসিক চাপে ভুগছে এবং কীভাবে তাকে সাহায্য করা যায়।”