খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে ভেজ, নন-ভেজ ইত্যাদি আলাদা রাখা যেতে পারে। তবে ডাইনিং হলে বসার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের বিভাজন থাকবে না।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 10 September 2025 16:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিন সপ্তাহ আগেই বির্তক নিয়ে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিল আইআইটি খড়গপুর (IIT Kharagpur)। হোস্টেলের ডাইনিং হলে আমিশাষী ও নিরামিষাশী (veg-nonveg in hostel dining hall) পড়ুয়াদের জন্য আলাদা বসার জায়গা নির্ধারণের নিয়ম চালু করেছিল কর্তৃপক্ষ। আগের জারি করা নির্দেশে এই বিভাজন চালু হয়েছিল, কিন্তু প্রাক্তনী এবং প্রাক্তন শিক্ষকদের তীব্র আপত্তির পর শেষমেশ সেই নির্দেশিকা প্রত্যাহার (veg-nonveg notice cancelled in IIT Kharagpur) করা হল।
প্রতিষ্ঠানের তরফে সব হোস্টেল ওয়ার্ডেনকে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে জানানো হয়েছে, “খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে ভেজ, নন-ভেজ, জৈন ইত্যাদি ভাগ আলাদা রাখা যেতে পারে। তবে ডাইনিং হলে বসার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের বিভাজন থাকবে না।”
আইআইটি খড়গপুরের ডিরেক্টর সুমন চক্রবর্তী বলেন, “কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয় কে ভেজ খাবে আর কে নন-ভেজ খাবে, তার ভিত্তিতে বসার ব্যবস্থা আলাদা করা। বিষয়টি জানার পরই আমরা হস্তক্ষেপ করি। কোনও হলেই এ ধরনের সাইনবোর্ড অনুমোদিত হবে না।”
অগস্টে আম্বেদকর হলে এক নির্দেশ জারি হয়েছিল যেখানে অভিযোগ ছিল, নির্দিষ্ট ভেজ টেবিলে আমিষ খাবার (ডিম, মাছ, চিকেন) খাচ্ছেন কেউ কেউ। হলের প্রায় ১,৩০০ আবাসিকের মধ্যে প্রায় ৩০০ জন ভেজিটেরিয়ান হওয়ায় তাঁদের চাহিদাতেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছিল বলে জানানো হয়েছিল।
তবে হল ম্যানেজমেন্ট সেন্টার ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ওই নীতি বাতিল করে। মেট্রোর প্রতিবেদনে উঠে আসে, ডাইনিং হলে ‘Only Veg’ (কেবলমাত্র নিরামিষ) লেখা বোর্ড বসানো হয়েছিল, যা শিক্ষাক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্তিমূলক চেতনার পরিপন্থী বলে সমালোচনা হয়।
শুধু আম্বেদকর হল নয়, অন্যান্য হোস্টেলেও এ ধরনের বিভাজন চালু হয়েছে বলে অভিযোগ। যেমন, মদন মোহন মালব্য হলে ভেজ এবং ননভেজ ভিত্তিতে আলাদা ফ্লোর ভাগ করা হয়েছে।
আইআইটির কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের প্রাক্তন প্রধান অনুপম বসু সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আম্বেদকরের নামে হল, অথচ ভেতরে ভেতরে বিভাজন- এটা অগ্রহণযোগ্য। তিনি জীবনের সবটুকু সময় বৈষম্য ও বর্জনের বিরুদ্ধে লড়েছেন। নাম রাখা যথেষ্ট নয়, তাঁর আদর্শও মানতে হবে।”
প্রাক্তনীরাও এই নির্দেশিকার বিপক্ষে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “কয়েক বছর আগেও এমন কোনও নিয়ম ছিল না। উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই ধরনের সামাজিক বাধা ভাঙতে হবে, বাড়াতে নয়।”
উল্লেখ্য, ভারতের প্রাচীনতম আইআইটি খড়গপুর বর্তমানে প্লাটিনাম জয়ন্তী অর্থাৎ ৭৫ বছর পালন করতে চলেছে।