আইআইটি খড়্গপুরের ডিরেক্টর সুমন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ঘটনাটির তদন্তে একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রথম বর্ষের পিএইচডি গবেষক হর্ষ কুমার পাণ্ডে
শেষ আপডেট: 22 September 2025 12:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সম্প্রতি আবারও এক ছাত্র গবেষকের মৃত্যুতে (PhD scholar death) প্রশ্ন উঠল আইআইটি খড়্গপুরের প্রশাসনিক (IIT Kharagpur administration) ভূমিকা নিয়ে। ক্ষোভ ও উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। গত শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর বিআর আম্বেদকর হল অব রেসিডেন্সের একটি ঘর থেকে প্রথম বর্ষের পিএইচডি গবেষক হর্ষ কুমার পাণ্ডের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। রবিবার হর্ষের বাবা মনোজ কুমার পাণ্ডে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সরব হন।
হর্ষের বাবা মনোজ পেশায় একজন রেডিও ফিজিসিস্ট। তিনি জানান, প্রতিদিন রাতে ছেলের সঙ্গে কথা হত, কিন্তু সাম্প্রতিককালে কোনও অস্বাভাবিকতা তিনি টের পাননি।
সরাসরি আইআইটি খড়্গপুরের প্রশাসনের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর প্রশ্ন, “নয় মাসে এত ছাত্রের মৃত্যু কীভাবে হয়? আইআইটি খড়্গপুর প্রশাসন কী করছে? এই ঘটনাগুলি রুখতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
মনোজ আরও জানান জানান, মৃত্যুর আগের দিন অর্থাৎ শুক্রবার রাতে হর্ষ ফোন ধরেননি। তাঁর কথায়, “ভেবেছিলাম শনিবার সকালে কল করবে। সকালেও যোগাযোগ না পেয়ে হোয়াটসঅ্যাপে চেষ্টা করি। সাড়া না মেলায় দুপুরে প্রায় ২টোর সময় আইআইটি খড়গপুর থেকে খবর আসে যে হর্ষকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। জানুয়ারিতে ওখানে ও ভর্তি হয়েছিল। আমি চাই প্রশাসন ছাত্রদের প্রাণহানি রুখতে কঠোর ব্যবস্থা নিক।”
হর্ষ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধীনে ফ্লুইড ডাইনামিক্স নিয়ে পিএইচডি করছিলেন। তিনি বিটেক ও এমটেক শেষ করে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে গবেষণায় যোগ দেন।
আইআইটি খড়্গপুরের ডিরেক্টর সুমন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ঘটনাটির তদন্তে একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। “আমরা রিপোর্টের অপেক্ষায় আছি,” বলেন তিনি।
ডিরেক্টর আরও জানান, হর্ষ পিএইচডির জন্য আবশ্যিক ‘কমপ্রিহেনশন’ পরীক্ষায় একটি বিষয়ে ফেল করেছিলেন। তবে তা বিরল নয় এবং এতে আবারও পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকে। “কাউন্সেলিং সেন্টারে হর্ষের যাওয়ার রেকর্ড নেই। কিন্তু না যাওয়া মানে এই নয় যে মানসিক সমস্যা ছিল না,” বলেন ডিরেক্টর।
গত নয় মাসে ক্যাম্পাসে মোট পাঁচজন ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে, যা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ডিরেক্টরের কথায় বলেন, “আমরা ইতিমধ্যেই ছাত্রকল্যাণের জন্য বিশেষ ডিন নিয়োগ করেছি, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আনা হয়েছে, ছাত্র ও অভিভাবকদের জন্য ইনডাকশন প্রোগ্রাম শুরু হয়েছে। ১৬ হাজার শিক্ষার্থীর এই ক্যাম্পাসে আমরা নিয়মিত নীতি পর্যালোচনা করছি।”
হর্ষের বাবা মনোজ বলেন, “আমার ছেলে শিক্ষক হতে চেয়েছিল। এখনও পর্যন্ত প্রশাসন তার মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট করে জানাতে পারেনি। একের পর এক প্রাণহানি ভয়ঙ্কর ইঙ্গিত দিচ্ছে।”
যদিও আইআইটি খড়্গপুরের ডিরেক্টর সুমন চক্রবর্তী আশ্বাস দিয়েছেন যে ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।