সিটের বক্তব্য, পোশাক ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য জমা দেওয়ার বিষয়েও তিনি অনীহা দেখিয়েছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—গোপন জবানবন্দি, সেটিও এড়িয়ে যাচ্ছেন নির্যাতিতা।

গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 15 July 2025 14:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জোকা আইআইএম ধর্ষণ মামলায় (IIMJoka) তদন্তের পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে উঠছেন স্বয়ং নির্যাতিতা তরুণী (Victim), এমনই অভিযোগ তদন্তকারী অফিসারদের (SIT Investigation)।
শুক্রবার জোকা আইআইএম এর বয়েজ হস্টেলে কাউন্সেলিংয়ের নাম করে ডেকে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। নির্যাতিতা অভিযোগ দায়েরের পরই সংশ্লিষ্ট কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গঠন করা হয় বিশেষ তদন্তকারী (সিট) দলও।
সিট সূত্রের খবর, তদন্তে কোনও গাফিলতি রাখা হচ্ছে না। জোগাড় হয়েছে ডিজিটাল প্রমাণ, ঘটনাস্থলের ফরেন্সিক নমুনাও সংগ্রহ হয়েছে। কিন্তু এতদিন কেটে গেলেও হয়নি নির্যাতিতার মেডিক্যাল পরীক্ষা। পোশাক ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য জমা দেওয়ার বিষয়েও তিনি অনীহা দেখিয়েছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—গোপন জবানবন্দি, সেটিও এড়িয়ে যাচ্ছেন নির্যাতিতা।
তদন্তকারী অফিসারদের দাবি, আদালতের কাছে গোপন জবানবন্দির জন্য আর্জি জানানো হয়েছিল। আদালত সোমবার দিন ধার্য করে। তরুণীকে তা জানিয়ে দেওয়া হয়। তাঁকে বোঝানো হয়, তাঁর জবানবন্দিই মামলার ভবিষ্যতের অন্যতম বড় ভিত্তি হতে পারে।
কিন্তু সোমবার নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তরুণী থানায় হাজির হননি। দুপুর গড়িয়ে গেলেও তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি। ফোন করলে পাওয়া যায়নি, একবার যোগাযোগ হলে জানান তিনি ট্রমায় আছেন। তারপর আর যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। শেষমেশ সিট আদালতকে জানায়, নির্যাতিতা জবানবন্দি দিতে আসতে পারেননি।
এরপর আদালত মঙ্গলবার (আজ) দিন ধার্য করে। কিন্তু মঙ্গলবারও নির্যাতিতা আদৌ আদালতে হাজির হয়ে গোপন জবানবন্দি দেবেন কিনা তা নিয়ে সংশয়ে তদন্তকারীরা।
তরুণীর এই ভূমিকায় প্রশ্ন তুলেছেন অভিযুক্তের আইনজীবী সুব্রত সর্দার। সোমবার আদালতে তিনি বলেন, "গোপন জবানবন্দির জন্য নির্ধারিত দিনে নির্যাতিতাকে হাজির করার দায় পুলিশের। কিন্তু তাঁকে আনা হয়নি কেন?" পাল্টা সরকারি আইনজীবী সৌরিন ঘোষাল বলেন, “তরুণী এখনও ট্রমার মধ্যে আছেন। তদন্ত কীভাবে চলবে, সেটা নির্ধারণ করবে না অভিযুক্ত পক্ষ।”
তবে তরুণীর এই আচরণকে ঘিরে সংশয় তৈরি হয়েছে তদন্তকারীদের মধ্যেও। সিট সূত্রে খবর, তরুণী যে পেশায় সাইকোলজিস্ট, তার কোনও প্রামাণ্য নথি সোমবার রাত পর্যন্ত জমা দেননি। অন্য দিকে ঘটনার পরই নির্যাতিতার বাবা সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে দাবি করেছিলেন, তাঁর মেয়ের ওপর কোনও নির্যাতন হয়নি। তিনি অটো থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছিলেন।
সব মিলিয়ে তদন্তে তাঁর ভূমিকা ক্রমশ রহস্যজনক হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন অফিসাররা। তাঁদের প্রশ্ন, "যদি মামলা চালাতে আগ্রহ না থাকে, তা হলে অভিযোগই বা কেন দায়ের করেছিলেন?"
অন্যদিকে, অভিযুক্ত আইআইএম ছাত্র পরমানন্দকে জেরা করে একাধিক তথ্য পেয়েছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয়ের পর ভিডিও কল হত দু’জনের মধ্যে। তরুণী যে সাইকোলজিস্ট, তা জানার পরেই অভিযুক্ত পরিকল্পনা করেন কাউন্সেলিংয়ের নাম করে তাঁকে ক্যাম্পাসে ডেকে পাঠানোর। এরপরই নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসে।
এই পরিস্থিতিতে তদন্তকে দুর্বল হতে দিতে নারাজ সিট। নির্যাতিতার সহযোগিতা না মিললেও, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ জোগাড়ে কোনও খামতি রাখা হচ্ছে না বলে দাবি তদন্তকারীদের।