কলকাতায় লাগাতার বৃষ্টিতে দুর্যোগ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ, “প্রকৃতি আমাদের হাতে নেই। কিন্তু বিশ বছর ধরে ফরাক্কা ব্যারেজ, কলকাতা বন্দর ড্রেজিং হয়নি। বিহার-ঝাড়খণ্ডে বৃষ্টি হলে জল এসে পড়ে আমাদের এখানে। সবটাই আমাদের সামলাতে হয়।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 24 September 2025 17:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল। অঝোরে বৃষ্টিতে (Heavy Rain, Kolkata) প্লাবিত হয় শহরের একাধিক এলাকা। জলমগ্ন রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু অন্তত ১০ জনের। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতর পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Chief Minister Mamata Banerjee)। একই সঙ্গে সরকারি চাকরির প্রতিশ্রুতিও দিলেন।
মঙ্গলবার, ভবানীপুরের ৭০ পল্লির শীতলা মন্দিরে দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তবে এখানেই থামেননি তিনি। কড়া ভাষায় সিইএসসি-কে নিশানা করে বলেন, “এই মৃত্যুর দায় সিইএসসি-র। ওদের গাফিলতির জন্যই প্রাণ গেল এতগুলো। তাদেরই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।”
সেইসঙ্গে, মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা — “যদি সিইএসসি (CESC) মৃতদের পরিবারের কাউকে চাকরি না দেয়, তাহলে রাজ্য সরকার সেই দায়িত্ব নেবে।।”
এখানেই শেষ নয়। সঞ্জীব গোয়েন্কার নেতৃত্বাধীন সংস্থার উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর খোলা অনুরোধ, “মৃত্যুর দায় যেহেতু সিইএসসি-র, তাই অন্তত ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিন পরিবারগুলিকে।”
কলকাতায় লাগাতার বৃষ্টিতে দুর্যোগ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ, “প্রকৃতি আমাদের হাতে নেই। কিন্তু বিশ বছর ধরে ফরাক্কা ব্যারেজ, কলকাতা বন্দর ড্রেজিং হয়নি। বিহার-ঝাড়খণ্ডে বৃষ্টি হলে জল এসে পড়ে আমাদের এখানে। সবটাই আমাদের সামলাতে হয়।”
সিইএসসি-র পরিকাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা। বলেন, “এখানে ব্যবসা করছে, আর পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ করছে রাজস্থানে! এখানে কাজ করছে না। কতবার বলেছি! বলতে বলতে মুখ ব্যথা হয়ে গিয়েছে।” তবে একইসঙ্গে জানান, সংস্থার কর্ণধার সঞ্জীব গোয়েন্কার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে।
কলকাতার একাধিক অংশে এখনও নিচু জায়গাগুলিতে জল জমে রয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, “পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে।"