গত বছরের ডিসেম্বরের স্মৃতি উস্কে পাহাড়ে, জঙ্গলে ঘেরা পুরুলিয়া (Purulia) লাগোয়া সীমান্ত এলাকায় গত বুধবার এক গেরস্থর বাড়িতে ঢুকে পড়েছিল একটি পূর্ণ বয়স্ক বাঘ

গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 27 June 2025 18:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত বছরের ডিসেম্বরের স্মৃতি উস্কে পাহাড়ে, জঙ্গলে ঘেরা পুরুলিয়া (Purulia) লাগোয়া এলাকায় গত বুধবার এক গেরস্থর বাড়িতে ঢুকে পড়েছিল একটি পূর্ণ বয়স্ক বাঘ (Royal Bengal Tiger)। ইতিমধ্যে তাকে ঘুমপাড়ানি গুলিতে জব্দ করে গভীর জঙ্গলে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছে বন দফতর। সেই সূত্রে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বাঘিনি জিনাতের সঙ্গী আবার আসবে না তো!
তবে বাঘের পায়ের ছাপ নতুন করে আশা জাগিয়েছে জঙ্গলমহলে। পুরুলিয়া-ঝাড়খণ্ড সীমান্তে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের উপস্থিতি প্রমাণিত হতেই নড়েচড়ে বসেছে দুই রাজ্যের বন দফতর (forest department)। ঝাড়খণ্ডের দলমা ও বাংলার বান্দোয়ানের জঙ্গল ঘিরে তৈরি হয়েছে দুটি নতুন ব্যাঘ্র করিডর। বাঘিনি জিনাত ও তার সঙ্গীর আনাগোনা এই করিডরকে করেছে আরও গুরুত্বপূর্ণ।
ঝাড়খণ্ড থেকে পুরুলিয়া হয়ে ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি—প্রায় ২৫০ কিমি পথ ধরে তৈরি হয়েছে প্রথম করিডর। আর পালামৌ, হাজারিবাগ হয়ে পুরুলিয়ার ঝালদা থেকে কোটশিলা পর্যন্ত প্রায় ৩০০ কিমি বিস্তৃত দ্বিতীয় করিডর। এই করিডর সংরক্ষণের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বন দফতর। গাছপালা সংরক্ষণের পাশাপাশি বাঘের খাদ্য মজুত রাখতে বাড়ানো হবে বন্য শূকর, চিতল ও কাঁকর হরিণের সংখ্যা।
পুরুলিয়া বনবিভাগ ইতিমধ্যেই ২০টি নতুন ট্র্যাপ ক্যামেরা বসিয়েছে। বন বিভাগের ডিএফও অঞ্জন গুহ দ্য ওয়ালকে বলেন, “পুরুলিয়ার নতুন করিডর আমাদের গর্ব। জঙ্গলের ভারসাম্য বজায় রেখে বাঘের চলাচল সুনিশ্চিত করতে কাজ করছি।”
পালামৌ ব্যাঘ্র প্রকল্প কর্তৃপক্ষও ইতিবাচক। তাঁদের মতে, তিন দশক পরে ৭০০ কিমি দীর্ঘ ব্যাঘ্র করিডর নতুন করে খুলেছে। এটি মধ্যপ্রদেশ থেকে বাংলার জঙ্গল পর্যন্ত প্রসারিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাঘের সংখ্যাবৃদ্ধি ও টেরিটরি ফাইটের ফলে নতুন এই করিডরের গুরুত্ব অনেক বেড়েছে।
ঝাড়খণ্ডে বাঘের ওপর নজর রাখতে ক্যামেরা এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। পালামৌ প্রকল্পের সহ-অধিকর্তা প্রজেশকান্ত জেনা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “ঝাড়খণ্ডের অংশে নজরদারি আরও জোরদার হয়েছে। ক্যামেরা ব্যবহারে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, জিনাতের সঙ্গীর মতো ভবঘুরে বাঘেরা জঙ্গলমহলের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। আর এই করিডরের সংরক্ষণ বাংলার জঙ্গলকে দিতে পারে নতুন দিশা।