মেসির (Lionel Messi) বাংলা আসার গুঞ্জন উঠতেই বাবার সেই স্বপ্নপূরণ করতে ময়দানে নেমে পড়েন মেয়ে নেহা পাত্র। তিনি সামাজিক মাধ্যমে মেসির প্রতি তাঁর বাবার ভালবাসার কথা তুলে ধরতে থাকেন নিয়মিত। ছবিতে ও কথায়। এমন কি কেউ এই ব্যাপারে তাঁদের সাহায্য করতে পারবেন কি না তাই নিয়েও পোস্ট লেখেন নেহা। অবশেষে মিলল সাড়া।

ইছাপুরের শিবে ও মেসি।
শেষ আপডেট: 13 October 2025 18:24
এমন ঘটনা তো লাখে একটা হয়! নইলে ক'জনের কপালে এ ধরনের ফ্যানবয় মুহূর্ত আসে। নায়কের সঙ্গে সাক্ষাৎ শুধু স্বপ্নেই থেকে যায়। ইছাপুরের শিবে পাত্রর (Shibe Patra) কিন্তু তা নয়। সব ঠিক থাকলে এই শীতেই নিজের হাতে লিওনেল মেসিকে (Lionel Messi) চা বানিয়ে খাওয়াবেন শিবে। তাঁর ‘ভগবানের’ হাতে তুলে দেবেন বিশেষ উপহার। এখন শুধু প্রহর গোনা, আর অপেক্ষা।
মেসির প্রতি শিবেবাবুর প্রেম এখন গোটা তল্লাটের গল্পকথা। গত ২০ বছরে নানাভাবে সেই প্রেমের প্রকাশ দেখছেন ইছাপুরের মানুষ। নবাবগঞ্জের এই চাওয়ালা শুধু যে নীল সাদা রঙে তাঁর দোকান সাজিয়েছেন তা নয়, বাড়ির রঙও বদলে ফেলেছেন। এমনকী আসবাবপত্রের রঙও নীল-সাদা।
প্রতিবছর ধুমধাম করে মেসির জন্মদিন পালন করেন শিবেবাবু। মেসির বয়স বাড়ে। তাই ওজন বাড়ে কেকের। শিবেবাবুর স্ত্রী রান্না করেন পঞ্চব্যঞ্জন। সে এক হইহই কাণ্ড। মেসি হয়তো আসেন না, কিন্তু তাঁর জন্মদিনে নিমন্ত্রিতদের তালিকাটা নেহাত ছোট হয় না। শিবেবাবুর মেয়ে নেহা বলেন, "মানুষ ঘুরতে যাওয়ার জন্য টাকা জমান। আর আমার বাবা টাকা জমান মেসির জন্য খরচ করতে। প্রতিবারের জন্মদিন হইহই করে হয়। ফুটবল টুর্নামেন্টও করেছেন মেসির নামে। প্রতিবছর মেসির মূর্তিও তৈরি করান বাবা। এলাকার অনেকেই হাসাহাসি করেন। কিন্তু আমরা তো জানি ঠিক কোন আবেগ থেকে এ সব করেন আমার বাবা। ওঁর একটাই স্বপ্ন, মেসির সঙ্গে একবার দেখা করা।"
তাই মেসির বাংলা আসার গুঞ্জন উঠতেই বাবার সেই স্বপ্নপূরণ করতে ময়দানে নেমে পড়েন মেয়ে নেহা পাত্র। তিনি সামাজিক মাধ্যমে মেসির প্রতি তাঁর বাবার ভালবাসার কথা তুলে ধরতে থাকেন নিয়মিত। ছবিতে ও কথায়। এমন কি কেউ এই ব্যাপারে তাঁদের সাহায্য করতে পারবেন কি না তাই নিয়েও পোস্ট লেখেন নেহা। অবশেষে মিলল সাড়া।
মেসিকে বাংলায় নিয়ে আসার যিনি মূল উদ্যোক্তা সেই শতদ্রু দত্তের নজরে আসে নেহার পোস্ট। শতদ্রু দত্তর সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা সফল হয় নেহার। সম্প্রতি শতদ্রুবাবু শিবে পাত্রর ফোন নম্বরে যোগাযোগ করেন। নেহা জানান, মেসির সঙ্গে বাবাকে দেখা করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
নেহার কথায়, "আমরা ভাবতে পারিনি, বাবা তাঁর জীবনে নিজের ঈশ্বরের দর্শন পারে”। পড়শি তথা শিবে বাবুর ছোটবেলার বন্ধুর কথায়, “মেসি বলতে ও পাগল! শিবে যেন বিশ্বকাপ নেবে। এটা ওর জীবনে বিশ্বকাপ জেতার মতই ব্যাপার হতে চলেছে।”
খবরটা আসার পর থেকেই খুশিতে ভাসছেন শিবেবাবু। তারপর থেকেই শিবে পাত্রর ঘরে উৎসবের আবহ। আর তার জন্য শতদ্রুবাবুকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন শিবেবাবু ও তার গোটা পরিবার।
উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে গ্রিন সিগন্যাল পেতেই এখন শিবেবাবু ভগবানের জন্য কী নিয়ে যাবেন তা ভাবতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। খুব ইচ্ছে তাঁর হাতের তৈরি চা মেসিকে খাওয়ানোর।