দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি দেশে ফিরেছেন, দিন তিনেক হল। ঢাকের তালে, ফুলের মালায় ঘরের ছেলেকে বরণ করে নিয়েছিল গোটা দেশ৷ কিন্তু আনন্দ, উচ্ছ্বাসের প্রাথমিক পর্ব পেরোনোর পরেই শুরু হয়েছে অন্য এক পর্ব। আর সেই পর্বেই ঘোষণা হয়েছে, দেশের বীর সেনা, বায়ুসেনার উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমান এখনই কিছু মাস যুদ্ধবিমান চালাতে পারবেন না।
২৭ তারিখ পাক যুদ্ধবিমান এফ ১৬-কে ধাওয়া করতে মিগ ২১ নিয়ে পাকিস্তানে হানা দিয়েছিলেন অভিনন্দন। সেখানেই গুলি করে নামানো হয় তাঁর বিমান। নিজেকে 'ইজেক্ট' করে প্যারাস্যুট নিয়ে সে দেশের মাটিতে নামেন তিনি। ধরা পড়েন পাক সেনার হাতে। অসম্ভব স্নায়ুর চাপ সহ্য করে আটক থাকেন ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময়।
শেষমেশ কূটনৈতিক চাপে পাক সরকার মুক্তি দেয় অভিনন্দনকে। শুক্রবার দেশে ফেরেন তিনি।
ওয়াঘা সীমান্ত পার করে অভিনন্দনকে প্রথমে অমৃতসর এয়ারবেসে নিয়ে যাওয়া হয় ৷ সেখান থেকে তাঁকে বিশেষ বিমানে করে নিয়ে যাওয়া হয় দিল্লিতে। তবে দেশে ফিরে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাহিনীতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও, এখনই যুদ্ধবিমান চালাতে পারবেন না অভিনন্দন ৷ কারণ বায়ুসেনার নিয়ম অনুসারে, কমপক্ষে ৩ মাস থেকে ৬ মাস পর ফের যুদ্ধবিমান চালানোর অনুমতি পেতে পারেন তিনি ৷
মাঝের এই সময়টায় বেশ কিছু শারীরিক পরীক্ষা-নিরিক্ষা করাতে হবে তাঁকে৷ সামরিক পরিভাষায় এই পদ্ধতির নাম ডিবিফ্রিং ও ডিবাগিং।
বায়ুসেনা সূত্রের খবর, যুদ্ধবিমান চালানোর সময়ে যদি কোনও দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে ওই ব্যক্তির বিভিন্ন মেডিক্যাল টেস্ট করানো আবশ্যিক৷ তাঁর শরীরে কোনও গভীর চোট লেগেছে কি না কিংবা কোনও হাড় ভেঙে গিয়েছে কি না, খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে দেখা হয় ৷
কারণ কোনও বিমান ভেঙে পড়ার মুহূর্তে ইজেক্ট করে বাইরে বেরোনোর সময়ে গুরুতর আহত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে পাইলটের৷ অভিনন্দনেরও বুকের পাঁজরে এবং কোমরে চোট পাওয়া গেছে।
এ ছাড়াও বেশ কিছু মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষাও করা হবে অভিনন্দনের৷ শত্রুপক্ষের হাতে বন্দি থাকা অবস্থায় যে স্নায়ুর চাপে তিনি ছিলেন, যে মানসিক নির্যাতন তাঁর উপর চলেছে, তার কোনও প্রভাব থেকে গিয়েছে কি না, ভাল করে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে দেখা হবে সেটাও।
এই সমস্ত পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পরে সেই ফিটনেস রিপোর্ট এলে, তবেই আবারও যুদ্ধবিমান চালানোর অনুমতি পেতে পারেন তিনি ৷ আর এই গোটা প্রক্রিয়াটিতে মোট সময় লাগবে কমপক্ষে তিন মাস৷
তবে এমনও হতে পারে, সব কিছুর পরেও যুদ্ধবিমান ওড়ানোর জন্য সক্ষম বলে মনে করা হল না তাঁকে। সূত্রের খবর, সে ক্ষেত্রে অন্য কোনও বিমান চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে অভিনন্দনকে৷