যদিও এ ব্যাপারে চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন খোদ শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তিনি বলেন, "কত শূন্যপদ , সেটা তো নির্দিষ্ট করে কোথাও বলা হয়নি। তাছাড়া সরকারি নিয়ম মেনেই সমস্ত নিয়োগপ্রক্রিয়া চলছে, এভাবে রাস্তায় নেমে আন্দোলন অর্থহীন।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 11 September 2025 18:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: “সরকার বলছে পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি শূন্যপদ, তাহলে আমরা চাকরি পাচ্ছি না কেন?”— এমন প্রশ্নই রাজপথে গর্জে উঠল ২০২২ সালের টেট উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীদের মুখে।
প্রায় তিন বছর ধরে চাকরির আশায় অপেক্ষারত চাকরি প্রার্থীদের ধৈর্যের বাঁধ এবার ভেঙেই গেল। বৃহস্পতিবার দুপুরে রানি রাসমনি রোড থেকে শুরু— তারপর ধর্মতলা পেরিয়ে বিধানসভা চত্বর পর্যন্ত উত্তাল হয়ে উঠল গোটা শহরের বুক। পুলিশের বাধা, লাঠিচার্জ, ধাক্কাধাক্কি— কিছুতেই দমন করা গেল না বিক্ষোভ।
তীব্র হতাশা আর ক্ষোভে ফেটে পড়ে চাকরিপ্রার্থীরা বলেন, “টেট পাশ করে ভেবেছিলাম জীবন বদলাবে। শিক্ষকতার স্বপ্ন নিয়ে দিনরাত পড়াশোনা করেছিলাম। অথচ আজও কোনও নিয়োগ নেই। এত বড় প্রতারণা আর হতে পারে?”
পুলিশি ঘেরাটোপ টপকে অনেকেই বিধানসভা চত্বরেও ঢোকার চেষ্টা করেন। শুরু হয় ধস্তাধস্তি। কেউ স্লোগান দেন, কেউ পুলিশের পায়ে পড়ে কাকুতি-মিনতি করেন— “দয়া করে আমাদের চাকরি দিন।” কেউ আবার চোখের জলে ভিজিয়ে দেন রাজপথ।
চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ স্পষ্ট বলছেন, “পাশ করে বুঝলাম ভুল করেছি! সময়, শ্রম, অর্থ— সবকিছু নষ্ট করে দিল এই অনিশ্চয়তা।”
চাকরি না-পাওয়ার যন্ত্রণায় কেউ বিধ্বস্ত, কেউ ক্ষুব্ধ। তাঁদের দাবি, “সরকার যদি সত্যিই নিয়োগে আন্তরিক হয়, তবে এতদিন কেন বসে আছে? হাজার হাজার শূন্যপদ থাকার পরও কেন আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার?”
যদিও এ ব্যাপারে চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন খোদ শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তিনি বলেন, "কত শূন্যপদ , সেটা তো নির্দিষ্ট করে কোথাও বলা হয়নি। তাছাড়া সরকারি নিয়ম মেনেই সমস্ত নিয়োগপ্রক্রিয়া চলছে, এভাবে রাস্তায় নেমে আন্দোলন অর্থহীন।"
বিক্ষোভকারীদের হুঁশিয়ারি— “এবার আর ঘরে ফেরার প্রশ্ন নেই। যতদিন না নিয়োগ হচ্ছে, ততদিন আন্দোলন চলবেই।” খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে আরও পুলিশ বাহিনী। ইতিমধ্যে একাধিক চাকরিপ্রার্থীকে আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়েছে।