মুর্শিদাবাদের কান্দির আন্দি গ্রামে তাঁর বাড়ি ঘিরে গত সোমবার সকালে অভিযান চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের দেখেই পিছনের দরজা দিয়ে পালাতে যান তিনি।
.jpeg.webp)
জীবনকৃষ্ণ সাহা
শেষ আপডেট: 30 August 2025 12:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (Recruitment Scam) ধৃত জীবনকৃষ্ণ সাহার (Jiban Krishna Saha) আজ ইডি হেফাজতের (ED) মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ফের নিজেদের হেফাজতে চেয়ে যখন তাঁকে নিবার আদালতে তোলা হচ্ছিল, তার আগে সিজিও কমপ্লেক্স (CGO Complex) থেকে বেরনোর সময় ইডির হাতে গ্রেফতার (Jiban Krishna Saha Arrest) হওয়া তৃণমূল বিধায়ক জানান, তিনি মোবাইল ফোন ছুড়ে ফেলেননি। যে সম্পত্তি নিয়ে এত হইচই, সেটা তিনি দশ বছর ধরে ব্যবসা করে তিলে তিলে তৈরি করেছেন।
এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (SSC Recruitment Scam) গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূলের বড়ঞার বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। মুর্শিদাবাদের কান্দির আন্দি গ্রামে তাঁর বাড়ি ঘিরে গত সোমবার সকালে অভিযান চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের দেখেই পিছনের দরজা দিয়ে পালাতে যান তিনি। এমনকি ধরা পড়ার আগে নিজের মোবাইল ফোনও ঝোপে ফেলে দেন বলে দাবি ইডির।
এটাই প্রথম নয়। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সিবিআই যখন তাঁর বাড়িতে হানা দিয়েছিল, তখনও দু'টি মোবাইল ফোন পাশের পুকুরে ছুড়ে ফেলেছিলেন তিনি। সেবার ডুবুরি নামিয়ে উদ্ধার হলেও বিশেষ তথ্য মেলেনি। দীর্ঘ ১৩ মাস জেলে থাকার পর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জামিন পান তিনি। আদালত তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু ফের অসহযোগিতার অভিযোগ ওঠে সোমবারও।
একই মামলায় সেদিন সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। জীবনকৃষ্ণ সাহার শ্বশুরবাড়ি রঘুনাথগঞ্জে এবং আন্দি মহীষ গ্রামের এক ব্যাঙ্ককর্মীর বাড়িতেও অভিযান হয়। বীরভূমের সাঁইথিয়ার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল কাউন্সিলর মায়া সাহার বাড়িতে (যিনি জীবনকৃষ্ণের পিসি) তল্লাশি চলে সকাল থেকে।
অন্যদিকে পুরুলিয়ায় ইডির অন্য একটি দল হানা দেয় প্রসন্ন রায়ের শ্বশুরবাড়িতে। প্রসন্ন বর্তমানে জেলে রয়েছেন এবং তাঁকে এসএসসি দুর্নীতির ‘মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর শ্বশুরবাড়ির তিন বোন একসঙ্গে প্রাথমিকে শিক্ষক পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন।
ইডি সূত্রের দাবি, গ্রেফতারের সময় জীবনকৃষ্ণ আবারও নিজের মোবাইল ফোন গোপন করার চেষ্টা করেছিলেন। পরে তদন্তকারীরা বাড়ির পিছনের নর্দমা ও ঝোপ থেকে সেটি উদ্ধার করেন। তবে তিনি মোবাইলের পাসওয়ার্ড জানাতে অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ।
জীবনকৃষ্ণ সাহার টাকা ফেরতের তথ্য নিয়ে বিভ্রান্ত এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। কারণ মুর্শিদাবাদের বড়ঞার বিধায়ক ইডির হেফাজতে থাকাকালীন দাবি করেন যে, তিনি কোনও চাকরিপ্রার্থীকে টাকা ফেরত দেননি। কারণ, তিনি চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে টাকাই নেননি। বরং তিনি এক ব্যক্তিকে জমি কেনার জন্য ওই পরিমাণ টাকা দিয়েছেন বলে ইডিকে জেরায় জানিয়েছেন।