দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাত প্ল্যাকার্ড। তাতে লেখা—ন্যায় বিচার চাই। অসুস্থ শরীরেও ধর্নায় বসেছেন সন্ন্যাসিনী। সিস্টার লুসি কালাপুরা। গত বছর অগস্টে যাঁকে জোর করে চার্চ থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন কর্তৃপক্ষরা। প্রতিবাদের ভাষা যে কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে সেটাই বলেছেন নান লুসি। ক্যাথলিক চার্চের বিশপের বিরুদ্ধে যে আওয়াজ তুলেছিলেন তিনি তারই খেসারত দিতে হচ্ছে তাঁক। অভিযোগ, চার্চ থেকে বেরোতে না রাজি হওয়ায় দিনের পর দিন অনাহারে রাখা হয়েছে তাঁকে। হেনস্থার শিকারও হতে হয়েছে নানা সময়।
ফ্রান্সিসকান ক্ল্যারিস্ট কনগ্রেগেশন (এফসিসি) সন্ন্যাসিনী লুসি কালাপুরাকে চার্চ থেকে বিতাড়িত করে গত বছর অগস্টে। তাদের দাবি ছিল, চার্চের নিয়ম ভেঙেছেন নান লুসি। বিশৃঙ্খলার চূড়ান্ত পর্যায়ে নাকি পৌঁছেছিলেন তিনি। তাই সর্বসম্মতিতেই এমন সিদ্ধান্ত নেয় ক্যাথোলিক চার্চ কর্তৃপক্ষ। নানকে বেরিয়ে যাওয়ার নোটিস ধরাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাকি সন্ন্যাসিনীরা। প্ল্যাকার্ড নিয়ে তাঁদের ধর্নায় বসতেও দেখা যায়।
৫২ বছরের নান লুসি জানিয়েছেন, তাঁর একমাত্র ‘অপরাধ’, তিনি সন্ন্যাসিনী ধর্ষণ কাণ্ডে অবশেষে অভিযুক্ত বিশপ ফাদার ফ্রাঙ্কো মুলাক্কালের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন। কেরলের কোট্টায়ামের সাইরো-মালাবার ক্যাথলিক চার্চের এক সন্ন্যাসিনী বিশপ ফ্রাঙ্কোর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছিলেন ২০১৮ সালে। সেই অভিযোগ সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ভ্যাটিকানের হস্তক্ষেপ চেয়ে সন্ন্যাসিনী অভিযোগ করেছিলেন, ২০১৪ সালের মে মাসে কুরাভিলাঙ্গারের একটি গেস্ট হাউসে তাঁকে ধর্ষণ করেন ওই চার্চের বিশপ ফ্রাঙ্কো মুলাক্কাল। তাঁর আরও অভিযোগ ছিল, ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তাঁকে মোট ১৩ বার ধর্ষণ করেছিলেন ফাদার ফ্রাঙ্কো। তাঁকে ওই কনভেন্টে বন্দি করেও রাখা হয়। ওই সন্ন্যাসিনীর বক্তব্যের সমর্থনে মুখ খোলেন ওই কনভেন্টের আরও পাঁচ সন্ন্যাসিনী।

শুরু হয় তুমুল প্রতিবাদ-আন্দোলন। মামলা গড়ায় আদালত পর্যন্ত। বিশপের বিরুদ্ধে সাক্ষীদের প্রভাবিত করা ও প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ ওঠে। মামলা চলাকালীনই ওই ধর্ষণ কাণ্ডের অন্যতম সাক্ষী, চার্চের এক ফাদারের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। পুলিশি তদন্তকে প্রভাবিত করা হচ্ছে দাবি তুলে চার্চের বাইরে বিক্ষোভ দেখান ক্যাথোলিক চার্চের একাধিক সন্ন্যাসিনী, যাঁদের মধ্যে ছিলেন নান লুসি কালাপুরাও।
[caption id="attachment_180716" align="aligncenter" width="477"]

বিশপ ফ্রাঙ্কো মুলাক্কাল[/caption]
নানের অভিযোগ, “বিশপের বিরুদ্ধে মুখ খোলার পর থেকেই আমার উপর নির্যাতন চরমে ওঠে। খেতে দেওয়া হত না। ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বার করে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তাও কনভেন্টের মাটি আঁকড়ে পড়েছিলাম।” চার্চ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ দায়ের করেছেন লুসি।
আত্মজীবনীতে চার্চের অনেক আপত্তিকর বিষয়ের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দেগেছিলেন নান লুসি। তাঁর দাবি, সেইজন্যও কর্তৃপক্ষের রোষ নজরে পড়তে হয় তাঁকে। ফাদার রবিন ভাদাকামচেরির বিরুদ্ধেও তাঁর অভিযোগ গুরুতর। নানের দাবি, ওই ফাদার কোট্টায়ামের এক নাবালিকার উপর যৌন নির্যাতন চালিয়েছিলেন। চার্চের অনেক সন্ন্যাসিনীর সঙ্গে নাকি ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও আছে তাঁর। লুসির দাবি, যত হেনস্থাই করা হোক না কেন, তিনি কনভেন্ট ছেড়ে এক পাও নড়বেন না। গোটা বিষয়টা বিস্তারিত জানিয়ে ভ্যাটিকানের পোপ ফ্রান্সিসের সাহায্যও চেয়েছেন নান লুসি কালাপুরা।