দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাজের টোপ দেখিয়ে ওমানে নিয়ে গিয়েছিল এজেন্টরা। তার পরেই শুরু হয় অত্যাচার। বিউটিশিয়ান হতে গিয়ে পরিচারিকার চাকরি জোটে হায়দরাবাদের কুলসাম বানুর। কাজের সঙ্গে উপড়ি পাওনা বেধড়ক মার আর শারীরিক হেনস্থা। মুক্তির জন্য শেষে ওমানের ভারতীয় দূতাবাসের শরণাপন্ন হন কুলসাম। বিদেশ মন্ত্রী সুষমা স্বরাজের হস্তক্ষেপে পাঁচ মাস পরে নিরাপদে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি।
ওমানের ভারতীয় দূতাবাস শুধু নয়, সুষমার প্রশংসায় পঞ্চমুখ কুলসাম। বলেছেন, "সুষমাজী না থাকলে আমার বাড়ি ফেরা হতো না। ওরা আমাকে মেরে ফেলত।"
মেয়েকে নিয়ে অভাবের সংসার কুলসামের। জানিয়েছেন, আবরার নামে এক যুবক তাঁকে চাকরির সুযোগ করে দেবে বলে। সেটা যে মেয়ে পাচারের কোনও টোপ ছিল তা বুঝতে পারেননি কুলসাম। মুসকাটে বিউটিশিয়ানের চাকরি, সঙ্গে ৩০ হাজার টাকা মাইনে শুনে হাতে স্বর্গ পান তিনি। সেই সঙ্গে বিউটিশিয়ানের প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে বলে তাঁকে জানায় আবরার।
"দেশ ছাড়ার পর প্রথমে বুঝতে পারিনি। ওদের ব্যবহার অত্যন্ত মিষ্টি ছিল। কিন্তু দিনকয়েক পরেই তাদের আসল চেহারাটা সামনে আসে। এজেন্টদের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতে হতো আমাকে," বলেছেন কুলসাম। চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য অনেকবার অনুরোধ করেন তিনি। তাতে ফল হয় উল্টো। তাঁকে আটকে রেখে চূড়ান্ত হেনস্থা করা হয়। মহিলার কথায়, "ফিরে যেতে চাই শুনে ওরা আমাকে একটা ঘরে ১০ দিন ধরে আটকে রেখেছিল। কোনও খাবার দেয়নি। কোনও রকমে পালিয়ে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করি আমি।"
কুলসামকে উদ্ধার করে চার মাস নিজেদের কাছেই রেখে দেন ভারতীয় দূতাবাসের আধিকারিকরা। যোগাযোগ করা হয় হায়দরাবাদে তাঁর মেয়ের সঙ্গে। ওমানের ভারতীয় দূতাবাসের সূত্র ধরেই খবর যায় সুষমা স্বরাজের কাছে। তিনি তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নেন। তাঁরই সহযোগিতায় কুলসামকে বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করে ভারতীয় দূতাবাস। গত ৮ মে হায়দরাবাদে ফিরেছেন কুলসাম।