দ্য ওয়াল ব্যুরো: চার বছর আগে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগে ধরা পড়ে সে। চলছে বিচার। আর সেই বিচারের শুনানিতেই জানা গেল, শুধু ঘৃণ্য অপরাধ করেই থেমে থাকেনি অভিযুক্ত চন্দ্রবন সনপ। অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত করারও চেষ্টা করেছিল। ঘটনার পরে নাসিকের একটি মন্দিরে গিয়ে পুরোহিতের কাছে জিজ্ঞেস করে, এমন ঘটনা ঘটানোর পরে পুজো দিলে কি পাপ ধুয়ে যাবে? পুরোহিত প্রসাদ শুক্লা অবশ্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই অপরাধের পাপ পুজো করে স্খালন করা যায় না।
২০১৪ সালে, অন্ধ্রপ্রদেশের বাসিন্দা ইস্থার অনুঝ্য নামের ২৩ বছরের এক প্রযুক্তিকর্মীকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ ওঠে। তদন্তে জানা যায়, মুম্বইয়ের আন্ধেরিতে চাকরি সূত্রে থাকতেন ইস্থার। ৫ জানুয়ারি একটি কাজে বেরোনোর সময়ে চন্দ্রবনের গাড়িতে ওঠেন তিনি। চালক হিসেবে ওই গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলেন চন্দ্রবন সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে এই ঘটনা। এর পরে একটি ফাঁকা জায়গায় নিয়ে গিয়ে ইস্থারকে ধর্ষণ করে সে। তার পরে ইস্থারকে খুন করে আগুন জ্বালিয়ে দেয় দেহে। ১৬ জানুয়ারি উদ্ধার হয় ইস্থারের অর্ধদগ্ধ, পচাগলা দেহ।
তদন্তের পরে ৭০০ পাতার চার্জশিট তৈরি করেছে মুম্বই পুলিশ। সেই চার্জশিট আদালতে পেশ করে সরকারি কৌঁসুলি রাজা ঠাকরে জানান, ঘটনার পরেই নিজের কুষ্ঠিপত্র নিয়ে নাসিকের একটি মন্দিরে চলে যায় চন্দ্রবন। পুরোহিত প্রসাদ শুক্লাকে জানায় ঘটনাটির কথা। তাঁকে আরও স্তম্ভিত করে দিয়ে বলে, সে 'কালসর্পযোগ এবং অতিগন্দ যোগ পুজো' করতে চায়। এই পুজো করলে তার পাপস্খালন হবে কি না! শুক্লা খারিজ করেন প্রস্তাব। জানিয়ে দেন, এরকম পাপ করলে পুজো দিয়ে কোনও লাভ নেই। এবং পরবর্তী কালে পুলিশি তদন্তে সহায়তাও করেন শুক্লা।
এখানেই শেষ নয়। এর পরে ফের রাজাভাউ আহের নামের এক জ্যোতিষের কাছে যায় চন্দ্রবন। জানায়, তার গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান ঠিক নেই, তাই সময়টা খারাপ যাচ্ছে। জানায়, সে খুবই চাপের মুখে আছে। এর পর ওই জ্যোতিষের সঙ্গে ঘণ্টাখানেক নিজের কুষ্ঠি নিয়ে আলোচনাও করে সে। জানতে চায়, কোনও মহিলার উপর কোনও অন্যায় করে ফেলল, কোন পথে প্রায়শ্চিত্ত হতে পারে। রাজাভাউয়ের সাক্ষ্যও মিলেছে এই মামলার তদন্তে।
মনোবিদেরা বলছেন, ঘৃণ্য অপরাধ করার পরে অনেক ক্ষেত্রেই অনুতাপ হয় অপরাধীর। কিন্তু পুজোআচ্চার মাধ্যমে সে অপরাধের পাপ স্খালন করতে চাওয়ার অর্থ, সে অপরাধের গুরুত্বই বোঝেনি। আর পাঁচটা খুচরো অন্যায়ের মতোই দেখেছে ধর্ষণ করে খুনের মতো অপরাধকেও। এই মানসিকতা অত্যন্ত মারাত্মক। নির্ভয়া কাণ্ডের সময়েও দেখা গিয়েছিল, ধর্ষণ পরবর্তী নারকীয় অত্যাচারের কথা নির্বিকার মুখে স্বীকার করছে অপরাধী। কাজের সপক্ষে যুক্তিও দিচ্ছে। এ-ও যেন তেমনটাই। অপরাধ ঘটে গিয়েছে, ঈশ্বরকে পুজো তথা 'ঘুষ' দিলে তিনি ক্ষমা করে দেবেন।
এভাবে অপরাধের গুরুত্বই যদি না বোঝা যায়, তা হলে সে অপরাধ সমাজ থেকে অবলুপ্ত করা মোটেও সহজ নয়।