একটি ভিডিও বার্তায় হুমায়ুন দাবি করেন, গত ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদের শিলান্যাসের দিনে তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন মুর্শিদাবাদের মাটিতে তাঁর প্রভাব কতটা গভীর।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 21 December 2025 23:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের (2026 WB election) আগে রাজ্যে নতুন দলের আত্মপ্রকাশ। তৃণমূল বহিষ্কৃত ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) আগামিকাল (২২ ডিসেম্বর) নতুন দল ঘোষণা করতে চলেছেন। রবিবার দুপুরে তার প্রস্তুতি সভাও সেরে ফেলেছেন তিনি। বিধায়ক আগেই জানিয়েছেন, নতুন দল গড়ে তৃণমূল (TMC), বিজেপি (BJP), কংগ্রেস (Congress), সিপিএম- সকলের বিরুদ্ধেই লড়বেন। জোট বাঁধতেও আপত্তি নেই তাঁর। দলের প্রতীক চিহ্ন এবং নাম ইতিমধ্যেই ভেবে ফেলেছেন, যা প্রকাশ্যে আসবে সোমবার।
জানা গিয়েছে, 'জনতার পার্টি' গড়তে চান হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir new political party)। তবে দলের নাম এবং ফুল ফর্ম আগামী কালই জানা যাবে। প্রতীক চিহ্ন হিসেবে পছন্দ 'টেবিল', তবে সেটা না পেলে তাঁর পছন্দের তালিকায় আছে 'জোড়া গোলাপ ফুল।' ভরতপুরের বিধায়ক (Bharatpur MLA) জানিয়েছেন, তৃণমূল এবং বিজেপি বিরোধী সবাইকেই আমন্ত্রণ রয়েছে। জোট তৈরি করে আসন ভাগ করতে রাজি। কেউ নিজেকে বড় প্রমাণ করতে চাইলে প্রয়োজনে একা লড়ব এবং ২৯৪ আসনে প্রার্থী দেওয়ার ক্ষমতাও আছে।
একটি ভিডিও বার্তায় হুমায়ুন দাবি করেন, গত ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদের শিলান্যাসের দিনে তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন মুর্শিদাবাদের মাটিতে তাঁর প্রভাব কতটা গভীর। তাঁর কথায়, সেই দিন যে শক্তি ও উপস্থিতি তিনি দেখিয়েছিলেন, তা ছিল নজিরবিহীন।
বিধায়ক জানান, এবার তিনি নিজের সেই রেকর্ড নিজেই ভাঙতে চলেছেন। আগামী দিনে বেলডাঙার খাগরুপাড়া মোড়ে, প্রায় ৪৯ বিঘা বিস্তীর্ণ জমির উপর জনসমক্ষে তিনি তাঁর নতুন রাজনৈতিক দলের নাম ঘোষণা করবেন। সেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি থাকবে বলেও দাবি করেন তিনি। বিভিন্ন প্রস্তুতি সভা ও রাজনৈতিক বৈঠকে স্পষ্ট ভাষায় নিজের লক্ষ্য তুলে ধরেছেন হুমায়ুন। তিনি জানিয়েছেন, সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে এক ছাতার তলায় আনা তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য। সেই লক্ষ্যেই সংগঠনের কাজ চলছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
হুমায়ুনের বক্তব্য অনুযায়ী, অন্তত ৯০টি আসনে জিতে সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চান তিনি ও তাঁর অনুগামীরা। তাঁর মতে, সেই শক্তি অর্জন করা গেলে রাজনীতিতে সংখ্যালঘু সমাজের দাবি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই লক্ষ্য পূরণ না হলে বহু প্রতীক্ষিত স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে না। তাঁর কথায়, বাবরি মসজিদ পুনর্নির্মাণের স্বপ্নও তখন অধরাই থেকে যাবে। এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
গত ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙা থেকে বাবরি মসজিদ গড়ার সংকল্পে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন হুমায়ুন কবীর। ১৫ তারিখ রাত থেকে ২০ তারিখ দুপুর পর্যন্ত যে অনুদান জমা পড়েছে, তা গোনা শুরু হয়েছে ইতিমধ্যে। হুমায়ুনের 'রীতি' অনুযায়ী ফেসবুকে সেই গণনার লাইভও চলছে। ইতিমধ্যেই টাকার অঙ্ক পেরিয়েছে কয়েক কোটির গণ্ডি, এখনও গোনা চলছে। অনুদানের টাকা এবং সেই গোনায় কোনও গরমিল চান না, একথা আগেই জানিয়েছেন তিনি। তাই ক্যামেরা এবং মানুষের চোখের সামনে রেখেই সবটা করা হবে, মত ভরতপুরের সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের।