তৃণমূল ছেড়ে নিজের রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ে তুলে বিধানসভা ভোটের (Assmebly Election) লড়াইয়ে আরও বড় বাজি খেলতে চলেছেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর

হুমায়ুন কবীর
শেষ আপডেট: 27 December 2025 16:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূল ছেড়ে নিজের রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ে তুলে বিধানসভা ভোটের (Assmebly Election) লড়াইয়ে আরও বড় বাজি খেলতে চলেছেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। শনিবার জনতা উন্নয়ন দলের প্রতিষ্ঠাতা স্পষ্ট জানালেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল ১৮২টি আসনে (JUP) প্রার্থী দেবে। ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের (ISF) সঙ্গে জোটের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। পাশাপাশি, আসাদউদ্দিন ওয়েইসির (Asaduddin Owaisi) নেতৃত্বাধীন মিমের সঙ্গেও সমঝোতার দরজা খোলা রাখছেন। যদিও এই জোট-প্রস্তাব নিয়ে এখনও পর্যন্ত আইএসএফের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি (West Bengal News)।
এর আগে হুমায়ুন (Humayun Kabir News) জানিয়েছিলেন, ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৩৫টিতে লড়বে তাঁর দল এবং অন্তত ৯০টি আসনে জয়ের লক্ষ্য রয়েছে। সরকার গঠনে ‘কিংমেকার’ হওয়ার আত্মবিশ্বাসও লুকোননি তিনি। শনিবার সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য বিজেপিকে আটকানো। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) যাঁরা আমাকে গদ্দার বলছেন, তাঁরাই আসলে মুসলিম (Muslim) সমাজের সঙ্গে বারবার বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। ওয়াকফ আইন নিয়ে বড় বড় কথা বলেও শেষ পর্যন্ত মানুষকে বিভ্রান্ত করেছেন।”
ভোটের রণকৌশল ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হুমায়ুনের দাবি, ১৮২ আসনে লড়াই করে এমন ফল আনবেন যা বাংলার অভিজ্ঞ রাজনীতিকেরাও আগে পারেননি। তাঁর কথায়, “বাংলার রাজনীতিতে নানা সময় নতুন দল উঠে এসেছে— বাংলা কংগ্রেস থেকে সিপিআই (CPI), সিপিআই থেকে সিপিএম (CPM)। আগামী দিনে আমিই এবং আইএসএফ (ISF) একসঙ্গে নতুন অধ্যায় লিখব। মিম যোগ দিলে তাতেও আমাদের আপত্তি নেই।”
তবে আসন সমঝোতা নিয়ে এখনই মুখ খুলতে নারাজ হুমায়ুন। জানিয়েছেন, ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সম্ভাব্য জোটসঙ্গীদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করবেন, তার পরেই চূড়ান্ত ঘোষণা। প্রচার কৌশলেও আক্রমণাত্মক হুমায়ুন। প্রতিদিন তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রচারে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। সময় বাঁচাতে প্রয়োজনে হেলিকপ্টার ব্যবহারের কথাও বলেছেন। তৃণমূল, বিজেপি, কংগ্রেস বা সিপিএম— কাউকেই বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন না তিনি। তাঁর সাফ কথা, “লড়াই হোক। বাংলার মানুষ কাকে বেছে নেন, সেটাই শেষ কথা।”
উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনে আইএসএফ কংগ্রেস-সিপিএম জোটের শরিক ছিল। এ বার তারা কি জনতা উন্নয়ন দলের সঙ্গে হাত মেলাবে? উত্তর দেবে সময়ই।