দল গঠনের পর থেকেই হুমায়ুন জানিয়েছিলেন, মুর্শিদাবাদের গুরুত্বপূর্ণ দুটি কেন্দ্র - রেজিনগর ও বেলডাঙা থেকে লড়াই করতে পারেন তিনি। পাশাপাশি নিজের পুরনো কেন্দ্র ভরতপুর থেকেও লড়বেন কিনা, তা নিয়েও আলোচনা ছিল। কিন্তু ঘোষিত তালিকায় দেখা গেল, তিনি বেলডাঙা থেকে প্রার্থী হচ্ছেন না।

হুমায়ুন কবীর
শেষ আপডেট: 18 March 2026 16:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election 2026) ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণ ক্রমশ জটিল হচ্ছে। তার মধ্যেই নিজের গড়া দলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করলেন ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র পক্ষ থেকে বুধবার মোট ১৫টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা (AJUP Candidate List 2026) করা হয়েছে। তবে হুমায়ুনের নিজের লড়াইয়ের কেন্দ্র নিয়ে যে জল্পনা চলছিল, তাতে কিছুটা বদল দেখা গেল।
দল গঠনের পর থেকেই হুমায়ুন জানিয়েছিলেন, মুর্শিদাবাদের গুরুত্বপূর্ণ দুটি কেন্দ্র - রেজিনগর (Rejinagar) ও বেলডাঙা (Beldanga) থেকে লড়াই করতে পারেন তিনি। পাশাপাশি নিজের পুরনো কেন্দ্র ভরতপুর থেকেও লড়বেন কিনা, তা নিয়েও আলোচনা ছিল। কিন্তু ঘোষিত তালিকায় দেখা গেল, তিনি বেলডাঙা থেকে প্রার্থী হচ্ছেন না। পরিবর্তে রেজিনগরের পাশাপাশি নওদা কেন্দ্র থেকে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সাংবাদিক বৈঠকে হুমায়ুন জানান, আপাতত ১৮২টি আসনে প্রার্থী দেওয়া হচ্ছে। মালদহ ও মুর্শিদাবাদের আরও কিছু আসনে প্রার্থী দেওয়া হবে। বাকি তালিকা আগামী রবিবার প্রকাশ করা হতে পারে। এদিনের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, কান্দি কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন জামাই ইয়াসিন হায়দার। বেলডাঙায় দলের প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়েছে সৈয়দ আহমেদ কবীরের। বর্ধমান পূর্বস্থলী উত্তর কেন্দ্রে লড়বেন বাপন ঘোষ।
মালদহ জেলার একাধিক কেন্দ্রেও প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। রতুয়া কেন্দ্রে রয়াল ইসলাম, মালতীপুরে আবদুল মিনাজ শেখ, বৈষ্ণবনগরে মুসকরা বিবি এবং মানিকচক কেন্দ্রে আবু শইদকে প্রার্থী করেছে দল।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রার্থী তালিকায় হুমায়ুনের এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট, তিনি কৌশল বদল করছেন। বেলডাঙার বদলে নওদায় লড়ার সিদ্ধান্ত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। একই সঙ্গে দুই কেন্দ্রে লড়াই করে নিজের প্রভাব আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য নিয়েছেন বলেই মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন আসন্ন ভোটে অধীর রঞ্জন চৌধুরী এবং নওশাদ সিদ্দিকীকে সাহায্য করবেন তিনি। তাঁর দাবি, প্রার্থী না দিলে সমস্যা হবে। তাই প্রার্থী দিয়ে ভোট কাটিয়ে অধীর এবং নওশাদকে সাহায্য করার লক্ষ্য তাঁর। হুমায়ুন এও জানান, ব্যক্তিগতভাবে তিনি চান অধীর এবং নওশাদ জিতুন।
এবারের বিধানসভা ভোটের সবচেয়ে আলোচিত দুই কেন্দ্র ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম। সেখানে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন যথাক্রমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পবিত্র কর। আর বিজেপির থেকে শুভেন্দু অধিকারী দুই আসনে লড়ছেন। হুমায়ুন জানিয়েছেন, ভবানীপুর আসনে একজন অবাঙালি মুসলিমকে বেছে নেওয়া হয়েছে। আর নন্দীগ্রামে কাকে প্রার্থী করা হবে সেটাও স্থির হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি সেই নাম ঘোষণা করা হবে।
শাসকদল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরই নিজের রাজনৈতিক দল গড়েন হুমায়ুন কবীর। তারপর থেকেই বিরোধী শক্তিগুলিকে একত্রিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সিপিএম ও আইএসএফের সঙ্গে সম্ভাব্য জোট নিয়েও আলোচনা চলছিল। প্রথমে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিলেও শেষ পর্যন্ত সেই জোট বাস্তবায়িত হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে নিজস্ব শক্তিতেই নির্বাচনের লড়াইয়ে নামার বার্তা দিচ্ছেন হুমায়ুন। বুধবারের প্রার্থী তালিকা সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।