আজ চতুর্থ দিনে পড়ল টাকা গোনার কাজ। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া যাতে সকলের চোখের সামনে থাকে, তাই পুরোটাই লাইভ করা হয়েছে ফেসবুকে (facebook live)।

শেষ আপডেট: 14 December 2025 20:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করেন হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir Babri Masjid)। শনিবার সভাস্থল থেকেই সাধারণ মানুষের উদ্দেশে অনুদানের আর্জি (donation request for masjid) জানিয়েছিলেন তিনি। সেই অঙ্ক আগেই ৩ কোটির ঘর ছাড়িয়েছে। আজ চতুর্থ দিনে পড়ল টাকা গোনার কাজ। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া যাতে সকলের চোখের সামনে থাকে, তাই পুরোটাই লাইভ করা হয়েছে ফেসবুকে (facebook live)।
প্রসঙ্গত বাবরি মসজিদের অনুদানের জন্য ১১টি বাক্স বসিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। অল্প সময়ের মধ্যেই সবকটি ভরে গেছে। দান বাক্সে ৫০০ টাকার নোট থেকে শুরু করে খুচরো, সবই পাওয়া যাচ্ছে।
এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের স্ক্যানার এবং বাকি তথ্যও আপলোড করেছেন তিনি, যাতে মানুষ অনলাইনেও দূর-দুরান্ত থেকে টাকা দান করতে পারেন। অনেকেই দান করেছেন সোনা, যার বাজারমূল্য লাখে পৌঁছেছে।
এই বিপুল টাকার উৎস নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। মসজিদ নির্মাণের নেপথ্যে কি বিদেশি অনুদান? সেই প্রসঙ্গে দ্য ওয়াল-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হুমায়ুন অকপট জানিয়েছিলেন, “বিদেশ থেকে কেন টাকা আসবে? দেশের মুসলিমদের কি টাকা নেই?”
হুমায়ুন আরও জানিয়েছিলেন, “মোদীজিকে যেমন সাপোর্ট করার লোক আছে, তেমনই মুসলমানদের মান-সম্মান রক্ষার লোকও আছে ভারতে। মুসলিমদের সমস্যা নিয়ে কাজ করার জন্য মুসলিম রিলেটেড সংগঠন গড়লে বাংলায় অনেক মানুষ সাহায্যের হাত বাড়ান। প্রচুর মানুষের অর্থদানই তো তার প্রমাণ!।”
এখানেই থামেননি। স্বচ্ছতার প্রশ্নে সরাসরি কেন্দ্র ও রাজ্যকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি বলেন, “আমি যদি বেআইনি কিছু করি, ইডি-সিবিআই-আইটি তো আছে! দেখুক, তদন্ত করুক, ব্যবস্থা নিক।”
কেউ কেউ আবার মসজিদ নির্মাণের জন্য ইট, বালি পাথর দান করছেন। আর সেই কারণেই বেলডাঙা-রেজিনগরে ইটের জোগান দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়েছে ইটভাটার মালিকদের। প্রয়োজনে এসেও খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে অনেক গ্রাহককেই। ইট ভাটার মালিকরা জানিয়েছেন, শুধু ৬ তারিখেই প্রায় দেড় লক্ষ টাকার ইট বিক্রি হয়।
হুমায়ুন ঘনিষ্ঠদের তরফে জানা গেছে, অনুদানের টাকা ও গয়না সংরক্ষণের জন্য একটি আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনে সেখানে সিসিটিভি-সহ নিরাপত্তার সবরকম ব্যবস্থা করা হবে।
হুমায়ুনের দাবি, মুর্শিদাবাদের সঙ্গে বীরভূম, মালদাতেও মসজিদ তৈরির প্রস্তাব এসেছে। রামপুরহাট, সিউড়ি থেকে কিছু লোক এসে অনুরোধ করেছেন। মালদহ থেকেও অনেকে যোগাযোগ করেছেন। এই দুই জেলাতেই মসজিদের প্রস্তাব বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন হুমায়ুন।
শনিবার বহু বিতর্ক তৈরি করা বাবরি মসজিদের শিলান্যাস অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার পর মসজিদ নির্মাণ ঘিরে তোলা প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন বলেছিলেন, “মসজিদ তৈরিতে টাকার কোনও সমস্যা হবে না। রাজ্যের প্রায় সব জেলা থেকেই মানুষ নিজে থেকে টাকা দেবেন।” এও দাবি করেছিলেন, একটি সংস্থা ইতিমধ্যেই ৮০ কোটি টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে, যদিও সেই সংস্থার নাম প্রকাশ করতে চাননি তিনি।