এর আগে বিধায়ক পদ ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। তবে এদিন তিনি জানান, ভরতপুরের মানুষের অনুরোধে তিনি এখনই ইস্তফা দিচ্ছেন না।

আসাদউদ্দিন ওয়েইসি ও হুমায়ুন কবীর
শেষ আপডেট: 7 December 2025 17:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভরতপুরের হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) আপাতত বিধায়ক পদ ছাড়ছেন না। তবে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের পথে হাঁটলেন তিনি। জানালেন, আসাদউদ্দিন ওয়েইসির নেতৃত্বাধীন AIMIM–এর সঙ্গে হাত মিলিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের দিকেই তিনি এগোচ্ছেন। হুমায়ুনের দাবি, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই ওয়েইসির সঙ্গে তাঁর প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।
হুমায়ুন জানান, ওয়েইসি তাঁকে হায়দরাবাদে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। AIMIM-কে সঙ্গী করে নতুন দল তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে কথাবার্তা চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী ২২ ডিসেম্বর তাঁর নতুন দলের ঘোষণা হবে এবং সেই উপলক্ষে মুর্শিদাবাদে (Murshidabad) সম্মেলনও আয়োজন করবেন তিনি (Humayun Kabir News)।
হুমায়ুন বলেন, “আমি নিজে একটা রাজনৈতিক চিন্তাধারার প্রতিনিধি। দল গড়া আমার দায়। বাবরি মসজিদ (Babri Masjid) ইস্যুকে কেন্দ্র করে আমাকে তৃণমূল (TMC News) সাময়িক বরখাস্ত করেছে। তাই ২২ তারিখে আমার নতুন দল ঘোষণা করব। সেই দলেরই আমি চেয়ারম্যান হব। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১৩৫টিতে লড়াইয়ে নামব। বাকিগুলি AIMIM-এর সঙ্গে সমঝোতা করে ঠিক হবে। ওয়েইসি সাহেবের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, হায়দরাবাদে দেখা করব শিগগিরই। দলের রাজ্য সম্মেলনে তাঁকে আমন্ত্রণ জানাব। উনিও আগ্রহী।”
শুধু AIMIM নয়, প্রয়োজনে আইএসআফ (ISF) ও বামেদেরও (CPIM) পাশে পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন হুমায়ুন। তাঁর কথায়, “AIMIM তো স্থির। পাশাপাশি আইএসএফ এলে ভাল। বামফ্রন্ট চাইলে স্বাগত। কংগ্রেসও (Congress) আপত্তির নয়। আমার লক্ষ্য একটাই— বঙ্গ বিজেপিকে রোখা এবং আরএসএস ভাবাদর্শের মুখ্যমন্ত্রীকে ক্ষমতা থেকে সরানো।”
যদিও বামেদের কথা, পুজোর আগে যেমন দোকান উঠে আসে আর পরে মিলিয়ে যায়, তেমনই ভোটের মুখে দল গঠনের হিড়িক নতুন নয়। হুমায়ুন কবীর বামেদের সঙ্গে জোটে আগ্রহ দেখিয়ে তাদের উপকার করছেন না। দলের সিদ্ধান্ত দলই নেবে। মন্দির–মসজিদ নিয়ে যারা কথা বলে, তাদের সঙ্গে বামেদের বোঝাপড়া অসম্ভব।
অন্যদিকে, রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা (TMC) জানান, “মুর্শিদাবাদের মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ভরসা রেখেই হুমায়ুনকে জিতিয়েছেন। কেউ দলের ঊর্ধ্বে নয়। দল তাঁকে সাসপেন্ড করেছে, এরপর তিনি কী করবেন সেটা তাঁর সিদ্ধান্ত, তৃণমূলের নয়।”
উল্লেখ্য, এর আগে বিধায়ক পদ ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। তবে এদিন তিনি জানান, ভরতপুরের মানুষের অনুরোধে তিনি এখনই ইস্তফা দিচ্ছেন না।