মঙ্গলবার রাতে গোলাবাড়ি থানার অন্তর্গত বিবিরবাগানে রাহুল নামে এক যুবকের সঙ্গে আকাশ যাদব ও ভিকি নামে দু’জনের বচসা বেধে যায়। অভিযোগ, মদ্যপ অবস্থায় শুরু হওয়া সেই তর্ক মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ঘটনাস্থলেই চলে একাধিক রাউন্ড গুলি (Shootout at Golabari)।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 1 April 2026 10:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাওড়ার (Howrah) গোলাবাড়ি এলাকায় ফের দুষ্কৃতীদের দাপট (Shootout at Golabari)। সোমবার গভীর রাতে আচমকাই কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে বিবিরবাগান এলাকা। কয়েক সপ্তাহ আগে যেখানে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে এক প্রোমোটারকে খুন করা হয়েছিল (Promoter Murdered), সেই একই অঞ্চলে আবারও গুলির ঘটনার জেরে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে গোলাবাড়ি থানার অন্তর্গত বিবিরবাগানে রাহুল নামে এক যুবকের সঙ্গে আকাশ যাদব ও ভিকি নামে দু’জনের বচসা বেধে যায়। অভিযোগ, মদ্যপ অবস্থায় শুরু হওয়া সেই তর্ক মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ঘটনাস্থলেই চলে একাধিক রাউন্ড গুলি (Shootout at Golabari)। কোনওরকমে প্রাণে বাঁচেন তাঁরা। রাহুল কিংবা আশপাশের কেউ গুলিবিদ্ধ হননি। রাতে এলাকা ফাঁকা থাকায় বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো গিয়েছে।
হঠাৎ গুলির শব্দে ঘুম ভেঙে যায় বাসিন্দাদের। আতঙ্কে অনেকে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন। দ্রুত খবর যায় গোলাবাড়ি থানায়। রাতেই বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় এবং শুরু হয় তল্লাশি অভিযান।
প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহভাজন হিসেবে দু’জনকে পাকড়াও করেছে পুলিশ (Police)। ধৃতদের জেরা করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে- বচসা থেকেই এই গুলির ঘটনা, নাকি এর পেছনে আরও কোনও বড়সড় কারণ রয়েছে। পুলিশের একাংশের মতে, ঘটনাটির সঙ্গে রাজনৈতিক যোগ আছে কি না তাও তদন্তে দেখা হবে। কারণ সামনেই বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election 2026), হাওড়ায় ভোট ২৯ এপ্রিল। তার আগে এলাকায় পরপর গুলির ঘটনা নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে একই গোলাবাড়ি অঞ্চলে ২৭ বছরের প্রোমোটার সফিক খানকে প্রকাশ্য রাস্তায় পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করা হয়েছিল। সপ্তাহখানেক পর দিল্লি (Delhi) থেকে গ্রেফতার করা হয় মূল দুই অভিযুক্ত হারুন খান (Harun Khan) ও রোহিত হোসেনকে (Rohit Sen)। সেই ঘটনায় ধরপাকড় চালালেও এলাকা দুষ্কৃতীমুক্ত হয়নি বলেই অভিযোগ স্থানীয়দের। সোমবার রাতের ঘটনা সেই আশঙ্কাকেই আরও জোরদার করেছে।
এখন পুলিশের মূল লক্ষ্য- কারা গুলি চালাল, অস্ত্র কোথা থেকে এল এবং এই ঘটনার মূলে ঠিক কী রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং প্রয়োজনে আরও আটক করা হতে পারে।