তবে কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বিহারে যেভাবে এসআইআর হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গেও সেই একই নিয়মে কাজ হবে। নিয়ম বদলাবে না।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 8 October 2025 21:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাড়ির দূরত্ব ১০৮ কিলোমিটার, স্কুলে ৭৩০ জন পড়ুয়া, একা শিক্ষক হিসেবে সামলাতে হয় গোটা বিদ্যালয়, এর মাঝেও আরেকটি গুরুদায়িত্ব এসে চাপল শিক্ষকদের কাঁধে। নির্বাচন কমিশনের (Election Commission meeting) 'নিবিড় সমীক্ষা' বা এসআইআর (SIR) প্রকল্পে বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) হিসেবে নিযুক্ত হয়ে সেই কাজ কীভাবে সামলাবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা (Teachers)।
মঙ্গলবার রাতেই শহরে এসে বুধবার রাজ্যের রাজারহাট গোপালপুর এবং রাজারহাট নিউটাউন বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন কমিশনের শীর্ষ কর্তারা। আর সেখানেই উঠে এল বিএলওদের ক্ষোভ, অসন্তোষ, এবং উৎকণ্ঠার কথা।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপ নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী, তথ্যপ্রযুক্তি শাখার ডিরেক্টর জেনারেল সীমা খান্না, কমিশনের সচিব এস বি জোশী এবং উপ-সচিব অভিনব আগরওয়াল। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালও ছিলেন বৈঠকে।
এক শিক্ষিকা চোখে জল এনে বলেন, “আমার যাতায়াতেই প্রতিদিন লেগে যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। সোম থেকে শনিবার স্কুলে ক্লাস, তার ফাঁকে কীভাবে এসআইআর করব? শ্রম আইনে দিনে ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করা নিষেধ, অথচ আমাদের তো সময়ের হিসাব কেউ রাখে না!”
আরেকজন শিক্ষক জানান, “আমার স্কুলে আমি একাই শিক্ষক। ক্লাস নেওয়া, প্রশাসনিক কাজ,সব সামলাতে হয়। তার ওপর এসআইআর, সেটা কখন করব?”
এই পরিস্থিতিতে বিএলওরা সরাসরি কমিশনের কাছে স্কুল থেকে এক মাসের ছুটি চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন, যাতে তাঁরা এসআইআর-এর কাজ মন দিয়ে করতে পারেন। তবে এখনও কমিশনের তরফে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
কমিশনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, সব অভিযোগ ও সমস্যা খতিয়ে দেখা হবে। বিশেষ করে যাঁরা একা স্কুল চালান, তাঁদের ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে।
তবে কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বিহারে যেভাবে এসআইআর হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গেও সেই একই নিয়মে কাজ হবে। নিয়ম বদলাবে না।
তথ্যপ্রযুক্তি শাখার প্রধান সীমা খান্না বলেছেন, “মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এক ক্লিকেই আপলোড হবে তথ্য। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। প্রয়োজনে সরাসরি আমায় ফোন করুন।” নম্বর দিয়ে বিএলওদের উৎসাহও দেন তিনি। এখন দেখার কোন পথে শিক্ষকদের সমস্যা সমাধান করে কমিশন।