একুশের নির্বাচনের সেই রক্তাক্ত স্মৃতি যেন না ফেরে, ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে সেটাই এখন প্রধান লক্ষ্য জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India)।

জ্ঞানেশ কুমার
শেষ আপডেট: 10 March 2026 15:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একুশের নির্বাচনের সেই রক্তাক্ত স্মৃতি যেন না ফেরে, ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে সেটাই এখন প্রধান লক্ষ্য জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India)। মঙ্গলবার কলকাতায় সফরের দ্বিতীয় দিনে জানিয়ে দেওয়া হল, হিংসা ও ভয়মুক্ত ভোটই হবে কমিশনের আসল চ্যালেঞ্জ। আর সেই কাজে গাফিলতি দেখলে জেলাশাসক (DM) ও পুলিশকর্তাদের (Police) বিরুদ্ধে কেবল ‘বদলি’ নয়, বিভাগীয় তদন্ত বা ডিপার্টমেন্টাল প্রসেডিংস (DP)-এর হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)।
ক’দফায় ভোট?
সোমবার রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠকে বাম-বিজেপি (CPIM BJP) জোট বেঁধে অল্প দফায় ভোটের দাবি জানিয়েছিল। সেই প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, “কত দফায় ভোট (Election News) হবে, তা নিয়ে দলগুলি পরামর্শ দিয়েছে। বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দিল্লি ফিরে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” তবে তাঁর কথায় স্পষ্ট, অশান্তির আশঙ্কায় বুথ ও এলাকার নিরাপত্তা বিন্যাসে কোনও ফাঁক রাখতে চায় না কমিশন।
আধিকারিকদের ‘আল্টিমেটাম’
প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে কার্যত ‘হেডমাস্টার’-এর ভূমিকায় দেখা গিয়েছে জ্ঞানেশ কুমারকে। স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভোটারদের ওপর চাপ সৃষ্টি বা ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ উঠলে রেয়াত করা হবে না। জেলাশাসক (DM), পুলিশ সুপার (SP) এবং কমিশনারদের (CP) উদ্দেশে তাঁর কড়া বার্তা, নির্দেশ না মানলে মাঠের বাইরে বা ‘আউট’ হতে হবে, সেই সঙ্গে শুরু হবে কড়া আইনি ও বিভাগীয় প্রক্রিয়া।
ডিজিটাল নজরদারি ও রঙিন ইভিএম
এবারের ভোটে স্বচ্ছতা আনতে একগুচ্ছ নতুন ব্যবস্থার কথা জানিয়েছে কমিশন
বাংলার মানুষের কাছে আর্জি জানিয়ে জ্ঞানেশ কুমার বলেন, “আশা করছি, এবার প্রাক-ভোট বা ভোট-পরবর্তী কোনও হিংসা হবে না। আমরা সব বুথেই ভোটার সহায়তা কেন্দ্র রাখছি।” একুশের ‘ভুল’ শুধরে ছাব্বিশের নির্বাচনকে মসৃণ করাই এখন কমিশনের বড় চ্যালেঞ্জ।