সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়কে ঐতিহাসিক বলেই মনে করছেন কর্মচারী মহল। কারণ, রায়ে সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার করে জানিয়েছে, উপভোক্তা মূল্য সূচক (AICPI) অনুযায়ী ডিএ পাওয়া রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের আইনি অধিকার।

সুপ্রিম কোর্ট
শেষ আপডেট: 5 February 2026 12:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের (Aseembly Election) আগে রাজ্য বাজেট ঘোষণার দিনই বড়সড় ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার (State Govt)। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ (DA) নিয়ে বৃহস্পতিবার কড়া নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ মার্চ মাসের মধ্যেই মিটিয়ে দিতে হবে। তার প্রথম কিস্তি ৬ মার্চের মধ্যে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি আগামী মে মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ বকেয়া ডিএ মেটানোর সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়কে ঐতিহাসিক বলেই মনে করছেন কর্মচারী মহল। কারণ, রায়ে সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার করে জানিয়েছে, উপভোক্তা মূল্য সূচক (AICPI) অনুযায়ী ডিএ পাওয়া রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের আইনি অধিকার। সেই অধিকার থেকে তাঁদের কোনও ভাবেই বঞ্চিত করা যায় না।
কর্মচারী সংগঠনগুলির দাবি অনুযায়ী, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ বাবদ রাজ্য সরকারের মোট খরচ হতে পারে ৪০ হাজার কোটিরও বেশি। তার ২৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ১০ হাজার কোটির কিছু বেশি টাকা এখনই মেটাতে হবে রাজ্যকে।
উল্লেখ্য, এর আগে অন্তর্বর্তী রায়ে ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু রাজ্যের আর্থিক সংকটের যুক্তি দেখিয়ে সেই নির্দেশ মানেনি রাজ্য সরকার। সেই কারণেই এ বার আর কোনও ফাঁক রাখতে চায়নি শীর্ষ আদালত। বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র তাঁদের রায়ে জানিয়ে দিয়েছেন, নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে কি না, তা নজরে রাখার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হচ্ছে।
এই কমিটিতে থাকছেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা, ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ত্রিলোক সিং চৌহান, বিচারপতি গৌতম মাধুরী এবং কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (CAG) অথবা তাঁর দফতরের কোনও উচ্চপদস্থ আধিকারিক।
আদালত আরও জানিয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত যে বকেয়া ডিএ রয়েছে, তা তিন মাসের মধ্যেই মেটাতে হবে। শুধু ডিসবার্সমেন্টের রূপরেখা নির্ধারণই নয়, সেই অর্থ আদৌ কর্মচারীদের হাতে পৌঁছচ্ছে কি না, তার বাস্তবায়ণের দিকেও নজর রাখবে আদালত নিযুক্ত কমিটি।
এখন প্রশ্ন উঠছে, সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ রাজ্য সরকার মেনে নেবে, না কি ভোটের মুখে রিভিউ পিটিশন দাখিল করার পথে হাঁটবে। যদিও এখনও এ বিষয়ে রাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট নয়। তবে একথা অস্বীকার করার উপায় নেই, ছাব্বিশের ভোটের আগে বৃহস্পতিবারের ভোট অন অ্যাকাউন্টে আরও এক প্রস্ত খয়রাতি প্রকল্প ঘোষণার জল্পনার মধ্যেই এই রায় রাজ্য সরকারের কাছে বড় ধাক্কা হয়ে এল।