ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের মুখে এবং রাজ্য বাজেট ঘোষণার ঠিক আগেই বকেয়া ডিএ (DA) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ একটা মাইলফলক বইকি। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মোট বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তির টাকা মার্চ মাসের ৬ তারিখের মধ্যে দিতে হবে।

ছবি - এআই
শেষ আপডেট: 5 February 2026 11:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে বৃহস্পতিবার মাইলফলক রায় ঘোষণা করেছে সুপ্রিম কোর্ট (DA Supreme Court verdict)। শীর্ষ আদালত পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছে, ৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা তথা ডিএ-র (DA arrear) ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে রাজ্যকে। শুধু বর্তমানে কর্মরত রাজ্য সরকারি কর্মচারীরাই নয়, ২০১৯ সালের পর যাঁরা অবসর নিয়েছেন, তাঁদেরও ২০০৮ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ডিএ বাবদ বকেয়া টাকা মিটিয়ে দিতে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে। অর্থাৎ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে পেনশনভোগীদেরও একটা বড় অংশ ডিএ বাবদ বকেয়া টাকা পাবেন।
ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের মুখে এবং রাজ্য বাজেট ঘোষণার ঠিক আগেই বকেয়া ডিএ (DA) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ একটা মাইলফলক বইকি। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মোট বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তির টাকা মার্চ মাসের ৬ তারিখের মধ্যে দিতে হবে। শুধু তাই নয়, ১৫ মে-র মধ্যে বকেয়া ডিএ-র পুরো টাকাই পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এই রায়কে ঐতিহাসিক বলেই মনে করছেন অনেকেই। কারণ, সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, উপভোক্তা মূল্য সূচক বা AICPI অনুযায়ী ডিএ পাওয়া রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের আইনি অধিকার। সেই অধিকার থেকে কোনও অবস্থাতেই তাঁদের বঞ্চিত করা যাবে না। রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি খারাপ—এই যুক্তি দেখিয়ে ডিএ আটকে রাখা বৈধ নয় বলেই কার্যত সাফ জানিয়ে দিয়েছে আদালত।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এর আগেই অন্তর্বর্তী নির্দেশে ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ মেটানোর কথা বলেছিল সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু রাজ্য সরকার আর্থিক সংকটের যুক্তি দেখিয়ে সেই নির্দেশ মানেনি। সেই কারণেই এদিন চূড়ান্ত রায় ঘোষণার সময়ে কোনও ফাঁক রাখতে চায়নি শীর্ষ আদালত।
বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র তাঁদের রায়ে জানিয়েছেন, বকেয়া ডিএ সময়মতো মেটানো হচ্ছে কি না, তা নজরে রাখতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হচ্ছে। ওই কমিটিতে থাকবেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা, ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ত্রিলোক সিং চৌহান, বিচারপতি গৌতম মাধুরী এবং কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল বা তাঁর দফতরের কোনও শীর্ষ কর্তা। এই কমিটি শুধু ডিসবার্সমেন্টের রূপরেখা ঠিক করবে না, বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তার উপরও নজর রাখবে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০০৮ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত যে বকেয়া ডিএ রয়েছে, তা তিন মাসের মধ্যেই মিটিয়ে দিতে হবে রাজ্যকে। সেই টাকা কীভাবে ও কোন পর্যায়ে দেওয়া হবে, তা এই কমিটির নজরদারিতেই কার্যকর হবে।
কর্মচারী সংগঠনগুলির একাংশের দাবি, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ বাবদ মোট খরচ চল্লিশ হাজার কোটিরও বেশি হতে পারে। তার মধ্যে ২৫ শতাংশের অঙ্কই দাঁড়ায় প্রায় ১০ হাজার কোটির কাছাকাছি।
তবে এত বড় রায়ের পরেও পুরোপুরি আশ্বস্ত নন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একাংশ। তাঁদের আশঙ্কা, রাজ্য সরকার ভবিষ্যতেও নানা অজুহাত দেখিয়ে টাকা দেওয়ায় দেরি করতে পারে। তাই আদালতের নির্দেশ বাস্তবে টাকা হাতে না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে কর্মচারী মহলে।
সব মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় একদিকে যেমন রাজ্য সরকারের উপর আর্থিক চাপ বাড়াল, তেমনই ভোটের মুখে রাজনৈতিক অঙ্কেও নতুন সমীকরণ তৈরি করল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।