রাজ্য পুলিশের নাকের ডগা দিয়ে বিএসএফ কী করে রাজ্যের বাসিন্দাদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে?
.jpeg.webp)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 8 December 2025 19:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য পুলিশের নাকের ডগা দিয়ে বিএসএফ কী করে বাংলার বাসিন্দাদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে (How is BSF taking away the residents of the state in front of the state police?)? বীরভূমের অন্তসত্ত্বা সোনালি বিবির প্রসঙ্গ টেনে কোচবিহারের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে প্রকারন্তরে প্রশ্ন তুললেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান (Chief Minister Mamata Banerjee)।
এরপরই রাজ্য পুলিশের কর্তাদের সতর্ক করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, "রাজ্যের যাঁরা অফিসার আছেন তাঁদের বলব, এত ভীতু হলে চলবে না, মারপিট করতে বলছি না, খুন খারাপি করতে বলছি না! প্রো অ্যাক্টিভ হন।"
সম্প্রতি বীরভূমের অন্তসত্ত্বা সোনালি বিবিকে বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছিল বিএসএফের বিরুদ্ধে। পরে সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে তাঁকে দেশে ফেরাতে বাধ্য হয়েছে বিএসএফ। ওই প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "এই যে বাংলার গর্ভবতী মাকে নিয়ে এলাম। তার পরিবারের চারজন এখনও ওখানে আছে। তাঁরা ইন্ডিয়ার সিটিজেন। কাগজপত্র আছে, তা সত্ত্বেও বিএসএফ তাঁদের জোর করে পুশব্যাক করেছে।"
এরপরই রাজ্য পুলিশকে 'সাহসী' হওয়ার পরামর্শ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "বাংলায় কথা বললেই সবাইকে বাংলাদেশি তকমা লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। লোকাল পুলিশরা কী করছেন? আপনাদের হাতের নাগাল থেকে কী করে নিয়ে যাচ্ছে? নাকাচেকিংটা ঠিকমতো করুন। বর্ডার দিয়ে প্রচুর লেনদেন ইধার-উধার হচ্ছে।"
এখানেই না থেমে বিএসএফ এবং কেন্দ্রকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "যাঁরা বেশি সমালোচনা করেন, তাঁরাই এটা খেয়ে যায়! আর দোষ হয় অন্য লোকের। সব পাখি মাছ খায়, দোষ হয় মাছরাঙার!"
এরপরই রাজ্য পুলিশের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আসাম সরকারের কোনও অধিকার নেই বাংলার লোককে চিঠি পাঠানোর। আর পুলিশকেও আমার বলা থাকল, অন্য রাজ্য থেকে এসে আমার রাজ্যের লোককে যেন গ্রেফতার করে নিয়ে যেতে না পারে। এটা দেখার দায়িত্ব আপনাদের।"
এ ব্যাপারে রাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কোনও ক্রিমিনালকে অ্যারেস্ট করতে হলে স্টেট গর্ভমেন্টের সঙ্গে কথা বলুন। আমরা নিশ্চয়ই ক্রিমিনালদের অ্যালাউ করব না। কিন্তু সাধারণ মানুষ আর ক্রিমিনাল এক নয়। কাউকে ক্রিমিনাল দাগিয়ে দেওয়ার আগে দেখতে হবে যে সে ক্রিমিনাল কি না।"
অর্থাৎ এখন থেকে ভিন রাজ্যের পুলিশ কিংবা বিএসএফ স্রেফ অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে তুলে নিয়ে যেতে পারবে না। বরং কাউকে বাংলা থেকে নিয়ে যেতে হলে রাজ্যের পুলিশের কাছে যথাযথ নথিও দাখিল করতে হবে। রাজ্য প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্তার কথায়, মুখ্যমন্ত্রী এদিন যা বলেছেন, সেটাই নিয়ম। কিন্তু সোনালি বিবিদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম মানেনি বিএসএফ।
অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় এই ধরনের ঘটনা আকছার ঘটছে। আর কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় থানার পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও উঠছে। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, এদিনের প্রশাসনিক সভা থেকে এ ব্যাপারেই রাজ্য পুলিশকে তাঁদের দায়িত্ব সম্পর্কে ফের সতর্ক করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কোচবিহার জেলায় প্রচুর রাজবংশী, কামতাপুরী সহ সংখ্যালঘুদের বসবাস। তাঁদের বরাভয় দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, চিন্তা করবেন না। আমি থাকতে ডিটেনশন ক্যাম্প করতে দেব না। কারণ, আমরা চায় মানুষ তাঁর মর্যাদা নিয়ে সম্মানের সঙ্গে বাঁচুক।
প্রশাসনিক বৈঠক শেষে কোচবিহারের মদনমোহন মন্দির পরিদর্শনে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে পুজোও দেন তিনি।