পুরো বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন বাংলাদেশি রোকেয়া বিবি। স্বীকারোক্তি অনুযায়ী দশ বছর আগে সাতক্ষীরা থেকে ভারতে ঢুকে তিনি আধার ও ভোটার কার্ড বানিয়েছেন, এমনকি দু’বার ভোটও দিয়েছেন।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 20 November 2025 13:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের (Lakshmi Bhandar) টাকা বাংলাদেশিদের অ্যাকাউন্টে (Bangladeshi accounts) যাচ্ছে, এমন অভিযোগ ঘিরে রাজ্যজুড়ে নতুন করে চড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ।
এক বাংলাদেশি মহিলা সংবাদমাধ্যমের সামনে স্বীকার করেছেন, তিনি নাকি নিয়মিত লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেতেন। আর সেই মন্তব্য সামনে আসতেই তেড়ে এসেছে বিজেপি। কত জন বাংলাদেশি এই প্রকল্পের সুবিধাভোগী হয়েছেন, তার স্বচ্ছ তদন্ত চায় তারা (BJP demands investigation)।
বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, “বাংলার মানুষের করের টাকা থেকে কীভাবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বাংলাদেশিদের অ্যাকাউন্টে ঢুকল?”
তিনি দাবি করেন, প্রকল্পের আওতায় থাকা ২ কোটি ১৫ লক্ষ মহিলার মধ্যে ‘অনেকেই নাকি বাংলাদেশি’। বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চেয়ে তিনি বলেন, “এই টাকা বাংলার মানুষদের জন্যই খরচ হোক— এটাই কাম্য।”
অগ্নিমিত্রার অভিযোগের প্রেক্ষিতে তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী প্রশ্ন তোলেন, “বাংলাদেশিরা যদি ঢুকেই থাকে, তা হলে দায়িত্ব কার? বর্ডার পাহারা তো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের।” তিনি আরও বলেন, ভোটার তালিকা নিয়েও বিজেপির দ্বিচারিতা রয়েছে।
এদিকে পুরো বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন বাংলাদেশি রোকেয়া বিবি। স্বীকারোক্তি অনুযায়ী দশ বছর আগে সাতক্ষীরা থেকে ভারতে ঢুকে তিনি আধার ও ভোটার কার্ড বানিয়েছেন, এমনকি দু’বার ভোটও দিয়েছেন। সল্টলেক সেক্টর ফাইভের ঝুপড়িতে থাকতেন তিনি। এখন এসআইআর-এর নজরে পড়ে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে তাঁকে।
পুরো ঘটনা ঘিরে রাজ্য রাজনীতি এখন তপ্ত। বিজেপির অভিযোগ— তৃণমূলের নীতিহীনতার ফলেই প্রকল্পের টাকা পাচ্ছেন বাংলাদেশিরা। তৃণমূলের পাল্টা— সীমান্তে গাফিলতি কেন্দ্রের। আর এর মাঝেই জনমানসে নয়া কৌতূহল, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের আসল সুবিধাভোগী কারা, তার মধ্যে কতজন এরকম বাংলাদেশির নাম রয়েছে?