ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কর্তব্যরত নার্সকে আঙুল তুলে 'চুপ কর, একদম চুপ" বলে শাসাচ্ছেন কানাইয়ালাল আগরওয়াল। এই ভিডিওর সত্য়তা দ্য ওয়াল যাচাই করেনি। পরবর্তীতে অবশ্য ওই নার্সের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য দফতরে নালিশ জানানোর হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি।

শেষ আপডেট: 25 October 2025 13:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর: ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালের এক সিনিয়র নার্সকে প্রকাশ্যে চিৎকার করে ধমকানোর অভিযোগ উঠল হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান কানাইয়ালাল আগরওয়ালের বিরুদ্ধে। তৃণমূলের জেলা সভাপতির এমন আচরণে শোরগোল পড়েছে গোটা জেলায়। এক রোগীর মৃত্যুকে ঘিরে ঘটনার সূত্রপাত।
ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কর্তব্যরত নার্সকে আঙুল তুলে 'চুপ কর, একদম চুপ" বলে শাসাচ্ছেন কানাইয়ালাল আগরওয়াল। এই ভিডিওর সত্য়তা দ্য ওয়াল যাচাই করেনি। পরবর্তীতে অবশ্য ওই নার্সের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য দফতরে নালিশ জানানোর হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি ও হাসপাতালের হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান।
হাসপাতালসূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে বমি ও বুক জ্বালা নিয়ে প্রণব দত্ত নামে এক রোগীকে ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার পর বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে ছুটি দেওয়া হয়। কিন্তু ওই রাতেই শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় ফের হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। মৃতের আত্মীয়দের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার দুপুরে রোগীর অবস্থা খারাপ হতে শুরু করায় একাধিকবার কর্তব্যরত নার্সদের জানানো হলেও তাঁরা কোনও ব্যবস্থা নেননি। চিকিৎসা না পেয়েই মৃত্যু হয় প্রণব দত্তর (৫৫)। ইসলামপুর শহরের ক্ষুদিরামপল্লি এলাকায় তাঁর বাড়ি।
চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে এরপরেই প্রবল উত্তেজনা ছড়ায় ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে। ছুটে আসেন রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান কানাইয়ালাল আগরওয়াল। কর্তব্যরত নার্সরা বিষয়টি তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু অভিযোগ, তিনি কোনও কথাই শুনতে চাননি। বরং আঙুল তুলে রীতিমতো ধমকধামক দেন কর্তব্যরত সিনিয়র নার্সকে। রাজ্য জুড়ে মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে যখন তোলপাড় চলছে, সেই সময়ে শাসকদলের জেলা সভাপতির এমন আচরণে রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায়।
বিষয়টি ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালের নার্সিং স্টাফরা। অন্যদিকে সিএমওএইচও ঘটনার সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছেন। এই ব্যাপারে রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণমন্ত্রী শশী পাঁজা জানান, হাসপাতালের কোনও স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে এমন ব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়।