সেবার আইনজীবী মমতাকে চুঁচুড়ায় জেলা জজ কোর্টে সওয়াল করতে দেখেছিলেন হুগলির প্রবীণ বাসিন্দাদের অনেকেই।

শেষ আপডেট: 4 February 2026 17:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সুপ্রিমকোর্টে সওয়াল করতে দেখে পুরনো কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল হুগলির বাসিন্দাদের। সেবার আইনজীবী মমতাকে চুঁচুড়ায় জেলা জজ কোর্টে সওয়াল করতে দেখেছিলেন হুগলির প্রবীণ বাসিন্দাদের অনেকেই।
সালটা ছিল ১৯৯৭। জুলাই মাসের ৬ তারিখ। রথযাত্রার দিন। গুপ্তিপাড়ায় রথের সড়কে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের বচসা বাঁধে। তা থেকে শুরু হয় তুমুল অশান্তি। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে গুলি চালায় পুলিশ। গুপ্তিপাড়ার লালপুকুর এলাকার বাসিন্দা হলধর মণ্ডল ও বুড়ো বাগ গুলিবিদ্ধ হন। মৃত্যু হয় হলধরের।
পরের দিন ৭ তারিখ গুপ্তিপাড়ায় যান তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন।রথের সড়কে ছোটো সভা করে সোজা চুঁচুড়া আদালতে পৌঁছে যান। খবর ছিল মৃত হলধর মণ্ডলের দেহ চুঁচুড়াতেই দাহ করে দেবে পুলিশ। এর বিরুদ্ধে মৃতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে চুঁচুড়ায় জেলা জজ কোর্টে সওয়াল করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সেদিন কালো গাউন পরে মমতাকে আদালতে সওয়াল করতে দেখেছিলেন অনেকেই। সেই ঘটনা মনে আছে বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদেরও। তখন ছাত্র পরিষদের দাপুটে নেতা, বর্তমান বিধায়ক অসিত মজুমদার বলেন, "১৯৯৭ থেকে ২০২৬, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একই রয়ে গেলেন। শুধু দায়িত্বটা বেড়ে গেছে। ১৯৯৭ সালে একটি পরিবারের হয়ে সওয়াল করেছেন হুগলি জজ কোর্টে। আর ২০২৬ সালে বাংলার সব পরিবারের জন্য সওয়াল করলেন সুপ্রিম কোর্টে।"
প্রায় তিন দশক পর এদিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় SIR ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করতে দেখা গেল। নজিরবিহীন দৃশ্যের সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে রাজ্য।সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির সামনে দাঁড়িয়ে এদিন সওয়াল করলেন মমতা।