কার্যত ভবিষ্যদ্বাণীও করেছেন বিজেপি নেতা। তাঁর দাবি, আগামী দিনে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন না তখন তাঁকে আলিপুর কোর্টে গাছতলায় বসতে হবে, বুধবারের ঘটনা তারই প্রমোশন মাত্র!
.jpeg.webp)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সজল ঘোষ
শেষ আপডেট: 4 February 2026 17:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর (Supreme Court SIR Hearing) সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সরাসরি সওয়াল ঘিরে বুধবার তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দেশের শীর্ষ আদালতে দাঁড়িয়ে তিনি নির্বাচন কমিশন (ECI) এবং বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে গণতন্ত্র রক্ষার আর্জিও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তবে তাঁর এই পদক্ষেপকে ‘গ্যালারি শো’ বলে কটাক্ষ করেছেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ (BJP Leader Sajal Ghosh)।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুপ্রিম কোর্টে (Mamata Banerjee - Supreme Court) সওয়ালের ইস্যুতে দ্য ওয়াল-কে (The Wall News) প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিজেপি নেতা। তাঁর স্পষ্ট কথা, বুধবার যা হল সেটা গ্যালারি শো ছাড়া কিছু নয়। সজলের সংযোজন, ''মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদতে নিজেকে মোদী-বিরোধী রাজনৈতিক মুখ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার এবং আইনজীবী হিসেবে নিজের ব্র্যান্ডিং, মার্কেটিং করার চেষ্টা করেছেন।''
এক্ষেত্রে কার্যত ভবিষ্যদ্বাণীও করেছেন বিজেপি নেতা। তাঁর দাবি, আগামী দিনে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন না তখন তাঁকে আলিপুর কোর্টে গাছতলায় বসতে হবে, বুধবারের ঘটনা তারই প্রমোশন মাত্র! সজল এও বলেন, আদালত আদতে চলে তথ্য-প্রমাণের ওপর। কিন্তু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সেখানে গিয়ে শুধু ভাষণবাজি করে এসেছেন। কী বলতে চান, সেটারও কোনও ব্যাখ্যা নেই।
প্রসঙ্গত, স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরলেন বলে মনে করা হচ্ছে। শুনানির শুরুতে করজোড়ে বক্তব্য পেশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় তাঁর পাশে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ এবং আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধান বিচারপতি যখন জানান যে রাজ্যের আইনজীবীরা ইতিমধ্যেই একই বক্তব্য রেখেছেন, তখন মুখ্যমন্ত্রী অতিরিক্ত সময় চেয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরার অনুরোধ জানান।
প্রধান বিচারপতি পাল্টা বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল কোনও যোগ্য নাগরিকের নাম যাতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ না যায়। সেই প্রসঙ্গেই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্যই হল ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া। তিনি দাবি করেন, গোটা ব্যবস্থার মধ্যেই অসঙ্গতি রয়েছে এবং তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী সোমবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে ঘিরে বিতর্ক আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।